ফুটবলের নতুন দিগন্ত এশিয়া

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ রাত ০৮:২৫, সোমবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

কাতার বিশ্বকাপ ফুটবল এশিয়া ফুটবলের আরব বসন্ত। এবারের বিশ্বকাপে এশিয়ার দলগুলো যে পারফরমেন্স দেখিয়েছে তা ফুটবলের নতুন দিগন্ত রচনা করেছে। এবারের বিশ্বকাপে এশিয়া থেকে ছয়টি দল অংশ নিয়েছে। তার মধ্যে স্বাগতিক কাতার বাদ দিয়ে বাকি পাঁচটি দল কোয়ালিফাই করে এসেছে। তার মধ্যে গ্রুপ পর্ব থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে তিনটি দল চলে এসেছে। যেখানে শুধু লাতিনের মাত্র দুটি দেশ গ্রুপ পর্ব উতরাতে পেরেছে। তাও সেই দুটি দল হট ফেবারিট আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল।

 

বলতে গেলে এবারের বিশ্বকাপে বনেদি ঘরানার লাতিন আর ইউরোপের ফুটবলকে কাপিয়ে দিয়েছে এশিয়ানরা। এর আগে শুধু একবারই এশিয়ার দুটি দল একসঙ্গে গ্রুপ পর্ব পার করতে পেরেছিল। সেটি ২০০২ বিশ্বকাপে স্বাগতিক দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান একসঙ্গে পেরিয়েছিল গ্রুপ পর্ব। সেবার বিশ্বকে অবাক করে দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া খেলেছিল সেমিফাইনাল।

এবার কাতার বিশ্বকাপ নিজেদেরকে অন্যভাবেই জানান দিয়েছে কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, সৌদি আরব ও ইরান। দক্ষিণ কোরিয়া ১৯৮৬ সাল থেকে টানা বিশ্বকাপ খেলে যাচ্ছে। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সব থেকে বেশি বিশ্বকাপ খেলার রেকর্ড তাদের। কাতার বিশ্বকাপে তারা গ্রুপ পর্বে হারিয়ে দিয়েছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে। যদিও ২০০২ বিশ্বকাপে পর্তুগালকে হারানোর রেকর্ড আছে কোরিয়ানদের। তাছাড়া উরুগুয়ের সঙ্গে ড্র করেছে দলটি। ঘানার বিপক্ষে হেরে গেলেও দুর্দান্ত ফুটবল খেলেছিল তারা। গ্রুপ রানার্সআপ হয়েই সেকেন্ড রাউন্ড নিশ্চিত করেছে তারা।

দলের সেরা তারকা ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে টটেনহাম হস্টপারের হয়ে খেলা সন। তাছাড়া ইউরোপের লিগগুলোতে কোরিয়ার আরো অনেক খেলোয়াড় অংশ নিয়ে থাকেন। ইউরোপের লিগগুলোতে খেলার কারনেই কোরিয়ার দলের বড় মঞ্চে সাফল্য পেতে সমস্যা হচ্ছে না।

জাপান এবারের বিশ্বকাপে দুর্ধর্ষ দল বলা চলে। কঠিন গ্রুপে পড়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়েছে তারা। এই হারে জার্মানিকে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। জাপান হারিয়েছে ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়ন স্পেনকেও। গ্রুপ চ্যাম্পিয়নও হয়েছেন তারা। জাপানের খেলার ধাঁচ অনেকটাই ইউরোপীয় দলগুলোর মতো। জাপান দলের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই ইউরোপের লিগগুলোতে খেলে থাকেন।

অস্ট্রেলিয়া এশিয়া থেকে এবারও বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। গ্রুপ রার্নাসআপ হয়ে সেকেন্ড রাউন্ডে উঠেছিল তারা। তবে ফেবারিট আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে তাদেরকে। যদিও ম্যাচটিতে তারা দারুন খেলেছে।

সৌদি আরব তো প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে রীতিমতো চমক জাগিয়েছিল। কিন্তু পরের দুই ম্যাচে তারা লড়াই করে খেললেও হেরে যায় পোল্যান্ড ও মেক্সিকোর কাছে। ইরান প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাজেভাবে হারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাড়িয়ে ওয়েলসকে হারিয়ে দেয় তারা। কিন্তু শেষ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হেরে বিদায় নেয় তারা।

শুধুমাত্র স্বাগতিক কাতার ছাড়া এশিয়ার বাকি দলগুলো দুর্দান্ত খেলেছে এবারের বিশ্বকাপে। অথচ এই কাতারই কিনা এশিয়ান কাপ ফুটবলের শিরোপাধারী দল। এশিয়া ফুটবলের নতুন জাগরনে যে বিষয়গুলো কাজ করেছে তা হলো এশিয়ার অনেক খেলোয়াড়ই এখন ইউরোপের জমজমাট লিগগুলোতে খেলে থাকে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান আর ইরানের খেলোয়াড়রাই খেলে থাকে দামি লিগগুলোতে। সেখানকার খেলার ধরন রপ্ত করতে যা অনেকটাই কাজে দিয়েছে।

তাছাড়া আরও বড় বিষয় হলো ইউরোপের লিগগুলোতে এশিয়ার ধনকুবেরদের অর্থ লগ্নি। ফ্রান্সের লিগ চ্যাম্পিয়ন পিএসজির মালিক কাতারের লোক। দলটির মালিক নাসের আল খেলাইফি। দেদারশে অর্থ ঢেলেছেন তিনি দলটির পেছনে। পিএসজি বর্তমানে খেলছেন বিশ্বফুটবলের তিন সুপারস্টার আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি, ব্রাজিলের নেইমার আর ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে।

সৌদির ক্লাব আল নাসের বিপুল অর্থ প্রস্তাব করেছে পর্তুগালের সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে পেতে। আল নাসের রোনালদোকে ৩ বছরের চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছে। যেখানে প্রতি বছর রোনালদো পাবেন ৭৫ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় যা প্রায় ৮০০ কোটি টাকা।

বিষয়ঃ ফিফা

Share This Article