শীত এলেই বাড়ে যেসব চর্মরোগ

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সকাল ০৯:৪৯, রবিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২২, ২১ কার্তিক ১৪২৯

শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায়। বায়ুমণ্ডল ত্বক থেকে পানি শুষে নেয়। এই কারণে ফাটতে থাকে ত্বক, ঠোঁট ও পায়ের তালু। মানবদহের ৫৬ শতাংশই পানি। এর মধ্যে ত্বক নিজেই ধারণ করে ১০ ভাগ। ত্বক থেকে পানি বেরিয়ে গেলে দুর্বল হয়ে পড়ে। 

আমাদের ত্বকে থাকে ধর্মগ্রন্থি, থাকে তেলগ্রন্থি, যেখান থেকে অনবরত তেল আর ঘাম বের হয়। এ ঘাম ও তেল মিলে দেহের ওপর তেল ও পানির মিশ্রণ বা আবরণী তৈরি করে, যা দেহ শীতল রাখে এবং ত্বক শুষ্কতা থেকে রক্ষা করে, ত্বকের ফাটা ভাব প্রতিরোধ করে।

ঠোঁটের যত্ন নিন : শীতকালে কমবেশি সবার ঠোঁট ফাটে। তৈলাক্ত প্রলেপ ঠোঁটে ব্যবহার করে তা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ভ্যাসলিন, লিপজেল বা পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করে ঠোঁট ভালো রাখুন। জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট ভেজাবেন না। এতে ঠোঁট ফাটা আরও বেড়ে যেতে পারে।

পায়ের যত্ন নিন : শীতকালে কারও কারও পা ফাটে। এক্রোফ্লেভিন দ্রবণে পা কিছুক্ষণ ভিজিয়ে রাখুন। তারপর পা পানি থেকে তুলে শুকিয়ে ভ্যাসলিন মাখুন। গ্লিসারিন ও পানির দ্রবণ পায়ে মাখিয়ে ফাটা নিয়ন্ত্রণে রাখুন। পা ফাটা কম হলে অলিভ অয়েল বা নারকেল তেল ব্যবহার করুন। করতে পারেন পেট্রোলিয়াম, ভেজিটেবল অয়েল, ল্যানোলিন, সিলিকন, লিকুইড, প্যারাফিন, গ্লিসারিন ইত্যাদি।

ইকথায়োসিস : ইকথায়োসিস বিভিন্ন ধরনের। এ রোগের মধ্যে ভ্যালগারিস বেশি হয়। এটি জন্মগত রোগ। রোগটি শিশুকাল থেকেই লক্ষ্য করা যায়। নারী-পুরুষ উভয়েরই এ রোগ হতে পারে। আক্রান্ত হলে হাত ও পায়ের ত্বক ফাটা ফাটা এবং ছোট ছোট গুঁড়িগুঁড়া মরা চামড়া বা আঁইশ পায়ের সামনের অংশে বা হাতের চামড়ায় ফুটে ওঠে। 

তবে হাত ও পায়ের ভাঁজযুক্ত স্থানে থাকবে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। শীত এলে প্রতিবছর এর ব্যাপকতা বাড়ে। আক্রান্তদের হাতের রেখাগুলো খুব স্পষ্ট ও মোটা হয়, যা সাধারণ লোকের দেখা যায় না। একইসঙ্গে তাদের থাকে অ্যালার্জি। এ ধরনের রোগীর কারও কারও নাক দিয়ে প্রায়ই পানি পড়ে। পারিবারিক ইতিহাস খুঁজলে দেখা যায়, তাদের পরিবারে অ্যালার্জিক সমস্যা ছিল বা এখনো আছে। 

এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বেশি বেশি তৈলাক্ত পদার্থ মাখলে ত্বক ভালো থাকে এবং ফাটা ভাব থাকে না। তবে যাদের ফাটা অবস্থা বেশি, তাদের ক্ষেত্রে আলফা হাইড্রোক্সি অ্যাসিড মাখলে খুবই ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। এটি পেতে অসুবিধা হলে গ্লিসারিনের সঙ্গে সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে ত্বকে মাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

অ্যালার্জিমুক্ত থাকুন : হাঁপানির সঙ্গে অ্যালার্জির গভীর সংযোগ রয়েছে। ফুলের পরাগ, দূষিত বাতাস, ধোঁয়া, কাঁচা রঙের গন্ধ, চুনকাম, ঘরের ধুলা, পুরনো ফাইলের ধুলা দেহে অ্যালার্জিক বিক্রিয়া করে হাঁপানি রোগের সৃষ্টি করে। যারা হাঁপানিতে ভুগছেন, তাদের এগুলোর সংস্পর্শ ত্যাগ করতে হবে। ছত্রাক দেহে অ্যালার্জি তথা হাঁপানি সৃষ্টি করে। পনির ছত্রাক মিশিয়ে তৈরি হয়। কোনো কোনো পাউরুটি এবং কেক তৈরি করতেও ঈস্ট (ণবধংঃ) জাতীয় ছত্রাক ব্যবহার করা হয়। আলু, পেঁয়াজও ছত্রাক দ্বারা দূষিত হয়। 

এ ছত্রাকও অ্যালার্জি তথা হাঁপানি সৃষ্টির অন্যতম কারণ। ঘরের ধুলা হাঁপানিজনিত অ্যালার্জির অন্যতম কারণ। ঘরের ধুলায় একটি ক্ষুদ্র জীবাণু থাকে, যা ‘মাইট’ নামে পরিচিত। প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রে অ্যালার্জি সৃষ্টির জন্য এ ‘মাইট’ দায়ী। এ জন্য ঘরের আসবাবপত্র, কম্বল, পর্দা, তোশক, বালিশে যে ধুলা জমে থাকে, তা পরিষ্কার করার সময় দূরে সরে থাকতে হবে।

খাদ্যে অ্যালার্জির আশঙ্কা থাকে। যেমন দুধে অ্যালার্জি থাকে। গম, ডিম ও মাছে অ্যালার্জি হতে দেখা যায়। আরও অনেক খাবার, পশুপ্রাণী ও কামড় থেকে অ্যালার্জি হতে পারে। ওষুধও হতে পারে অ্যালার্জির কারণ। যেসব অ্যালার্জির কারণ হবে, তা থেকে দূরে থাকলে আক্রান্ত হওয়ার আর আশঙ্কা থাকে না। শীতকালে ভালো থাকুন, নিজেদের সুস্থ রাখুন।

বিষয়ঃ রুপচর্চা

Share This Article