যেভাবে এরশাদ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সকাল ১০:২১, শনিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
এরশাদ
এরশাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ৪ ডিসেম্বর, ১৯৯০। সারাদেশে উত্তাল গণআন্দোলন। ২৭ নভেম্বর ডা. মিলনের মৃত্যুর মধ্যদিয়ে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছে, সেই আন্দোলন উত্তাল হয়ে উঠেছিল। এরশাদ সরকার গণআন্দোলনে অচল হয়ে পড়েছিল। কোথাও তার নিয়ন্ত্রণ ছিল না। বিভিন্ন স্থানে মন্ত্রীদের ধাওয়া দেওয়া হচ্ছিল। কোথাও কোথাও মন্ত্রীরা গণপ্রতিরোধের মুখোমুখি হয়ে পড়ছিলেন।

 

এরকম অবস্থায় ৪ ডিসেম্বর জানানো হয় যে, উপরাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ একটি সাক্ষাৎকার দিবেন এবং সেখানে তিনি একজন নিরপেক্ষ উপরাষ্ট্রপতি নিয়োগের মাধ্যমে কিভাবে সঙ্কটের সমাধান দেয়া যায় সে ব্যাপারে আলোকপাত করবেন। রাত আটটার সংবাদের পর ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ যখন বাংলাদেশ টেলিভিশনে এই সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন ঠিক সেইসময় ঘোষণা আসে এরশাদ পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সারা দেশ উত্তাল আনন্দে ভেসে যায়, মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে।

এই মুহূর্তে খবর এলো, এরশাদের পতন হলো -এই শ্লোগান দিয়ে প্রকম্পিত হতে থাকে ঢাকা, গোটা দেশ। আর এরশাদের এই পতন ছিলো অত্যন্ত নাটকীয়। এমনকি এরশাদের কোন মন্ত্রী বা ঘনিষ্ঠজনও জানতেন না যে, এরশাদ এভাবে পদত্যাগ করতে পারেন। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বিটিভিতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, এরশাদ ছুটিতে যাবেন, তিনি (ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ) ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হবেন এবং একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তিকে উপরাষ্ট্রপতি করা হবে। কিন্তু এরমধ্যে এরশাদ পদত্যাগ করলেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ তাঁর গ্রন্থে বলেছেন যে, এটি ছিলো আকস্মিক এবং এই সিদ্ধান্ত এরশাদ একাই নিয়েছিলেন। এরশাদ পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন যে, এটিই একমাত্র সিদ্ধান্ত যে সিদ্ধান্ত তিনি একাই নিয়েছিলেন।

জানা যায় যে, এরশাদ টিকে থাকার জন্য শেষ চেষ্টা করেছিলেন। তিনি তৎকালীন সেনাপ্রধান নুরউদ্দীন খানের কাছে ফোন করেছিলেন এবং সেনাবাহিনী মোতায়েনের জন্য সহযোগিতা চেয়েছিলেন। কিন্তু সেনাপ্রধান নুরউদ্দীন খানের সরাসরি জানিয়ে দেন যে, এই অবস্থায় সেনাবাহিনী ঝুঁকি নেবে না। নুরউদ্দীনের সরি স্যার বলে দেওয়ার পরপরই এরশাদের সামনে আর কোন বিকল্প ছিলো না।

এ সময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং ভারতের রাষ্ট্রদূত এরশাদকে জানিয়ে দেন যে, এই মুহূর্তে তাকে সমর্থন দেয়া সম্ভব না। আর তখন এরশাদ এর সব পথ বন্ধ হয়ে যায়। তবে বিভিন্ন মহল মনে করেন যে, ৪ ডিসেম্বর এরশাদের যে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত সেটি এরশাদের শেষ রাজনৈতিক চাল ছিলো। এরশাদ ভেবেছিলেন শেষ পর্যন্ত বিরোধী দলগুলো হয়তো একজন নির্দলীয় নিরপেক্ষ ব্যক্তির ব্যাপারে একমত হতে পারবেন না। তখন এরশাদ আবার ফিরে আসবেন। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।

৪ ডিসেম্বর এরশাদের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ৬ ডিসেম্বর বাস্তবায়িত হয় এবং বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ নতুন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। স্বৈরাচারের ৯ বছরের অধ্যায়ের সমাপ্তিও ঘটে।

বিষয়ঃ বাংলাদেশ

Share This Article