‘শওকত মাহমুদদের’ নিয়ে বাড়তি সতর্কতায় বিএনপি

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সকাল ১০:২৯, বুধবার, ২২ মার্চ, ২০২৩, ৮ চৈত্র ১৪২৯

চলমান আন্দোলন ও আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সতর্ক অবস্থানে বিএনপি। সম্প্রতি রাজধানীর হোটেল শেরাটনে ‘ন্যাশনাল কমিটি ফর সিভিল রাইটস জাতীয় ইনসাফ কায়েম কমিটি’ নতুন করে যাত্রা শুরু করায় আরও সতর্ক ও কঠোর হয়েছে দলটি। এ সংগঠনে যুক্ত থাকায় দলের ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদকে দল থেকে বহিষ্কারের মধ্য দিয়ে মূলত কঠোর হওয়ার বার্তাই দিয়েছে দলটি।

বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলছেন, আগামী আন্দোলন ও নির্বাচন বিষয়ে যাতে দলের কেউ হটকারী সিদ্ধান্ত নিতে না পারে বা দলের বিরুদ্ধে অবস্থান না নেয়, সে কারণেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

চলতি বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের শুরুতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। বিএনপি বারবার বলে আসছে- এই নির্বাচনে তারা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অংশ নেবে না। সরকারের পদত্যাগসহ ১০ দাবিতে তারা সমমনা দল ও জোটের সঙ্গে ২৪ ডিসেম্বর থেকে যুগপৎ আন্দোলন করছে।

অবশ্য আগামী নির্বাচন ও চলমান আন্দোলন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা কথাবার্তা শোনা যাচ্ছে। এমন গুঞ্জনও আছে যে পর্দার আড়ালে ৬০-৮০টি আসন নিয়ে সরকারের সঙ্গে বিএনপির সমঝোতা হচ্ছে। আর এতে তারেক রহমান রাজি না হলেও দলের একটি অংশ নাকি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে যাবে। এ-ও প্রচার রয়েছে, নির্বাচনের আগে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার শর্তে নির্বাচনে যাবে বিএনপি। এসব প্রচারের সঙ্গে একেক সময় একেক নেতার নামও সামনে আসছে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘কেউ বলেন- ৬০ থেকে ৭০ আসন; কেউ বলেন- ৮০ আসনের কথা হচ্ছে বিএনপির সঙ্গে। কারা ছড়ায় এই গুজব? আসন দেওয়ার মালিক তো জনগণ।’

বিএনপিকে নিয়ে নানা প্রচারের মধ্যে গত ১৬ মার্চ ফের যাত্রা শুরু করে ‘জাতীয় ইনসাফ কায়েম কমিটি’। নেতৃত্বে আছেন কবি ফরহাদ মজহার ও সাংবাদিক শওকত মাহমুদ। ২০১২ সালে শুরু হওয়া এই সংগঠনের কার্যক্রম মাঝে নিষ্ক্রিয় ছিল। নতুন করে যাত্রা শুরুর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুগপৎ আন্দোলনে থাকা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও। সাবেক আমলা, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, সাংবাদিক নেতাসহ বিভিন্ন পেশার দেড় শতাধিক ব্যক্তি অনুষ্ঠানে অংশ নেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এ বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি বিএনপি।

এ নিয়ে গত সোমবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। স্থায়ী কমিটির নেতারা মনে করেন, ফরহাদ মজহার ও শওকত মাহমুদের এই কার্যক্রম বিএনপির পক্ষে নয়। তাদের এই কার্যক্রম পরোক্ষভাবে সরকারকে সুবিধা করে দেবে। এটা জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বড় ষড়যন্ত্র বলে মনে করে দলের নীতিনির্ধারণী এ ফোরাম।

২০১৭ সালের জুনে রাজধানীর শ্যামলীর হক গার্ডেনের বাসার সামনে ‘অপহরণের’ ১৮ ঘণ্টা পর কবি, প্রাবন্ধিক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার ফরহাদ মজহারকে যশোর থেকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মনে করেন, এরপর থেকে ফরহাদ মজাহার অনেকটাই নিষ্ক্রিয়।

এর মধ্যে ‘জাতীয় ইনসাফ কায়েম কমিটি’র নতুন করে যাত্রা শুরুতে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পায় বিএনপি। দলের ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ আগে থেকেই সন্দেহের তালিকায় ছিলেন। ২০১৯ ও ২০২০ সালের ডিসেম্বরে ঢাকায় বড় জমায়েত করে রাস্তায় নেমেছিল জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল এবং পেশাজীবী পরিষদ।

এরও নেতৃত্বে ছিলেন শওকত মাহমুদ। তখনো তাকে কারণ দর্শনোর নোটিশ দিয়েছিল বিএনপি। এ ছাড়া গত বছর শওকত মাহমুদ পেশাজীবী সমাজের ব্যানারে একটি সমাবেশ ডেকে সরকার পতনের ডাক দেন। ওই সমাবেশের সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক ছিল না। বিএনপি নেতারা মনে করেন, সরকার পতনের আন্দোলনের নামে এ ধরনের তৎপরতার পেছনে সরকারের ষড়যন্ত্র রয়েছে। এ কারণে দলের উচ্চপর্যায় থেকে অনেককে ফোন করে ওই সমাবেশে যেতে নিষেধ করা হয়। এ ঘটনায়ও শওকত মাহমুদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল বিএনপি। তখনো দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

দলের স্থায়ী কমিটির নেতারা বলেন, ওই ঘটনায় শওকত মাহমুদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু শওকত মাহমুদ সাংবাদিক নেতা হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কারণ এতে গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা ছিল। কোনো ব্যবস্থা না নিলেও তার পর থেকে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা তাকে এড়িয়ে চলতেন।

সাংবাদিক শওকত মাহমুদ জাতীয় প্রেসক্লাবের দুই দফা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া বিএনপি সমর্থিত ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নেরও সভাপতি ও সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সাংবাদিক থেকে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন ২০০৯ সালে। বিএনপিতে যোগ দিয়েই তিনি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হন। ২০১৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে শওকত মাহমুদ দলের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। শওকত মাহমুদ বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর ২০১৫ সালে গ্রেপ্তার হয়ে এক বছরের বেশি সময় কারাবাস করেন। তার বিরুদ্ধে ৬০টির বেশি মামলা রয়েছে।

বিএনপি মনে করে, ফরহাদ মজহার ও শওকত মাহমুদের সঙ্গে দলের আরও অনেকে থাকতে পারেন। যেহেতু বিষয়টি প্রমাণিত নয়, সে কারণে শওকত মাহমুদকে দল থেকে অব্যাহতি বা বহিষ্কার করা হলে কেউ জড়িত থাকলেও তারা থেমে যাবেন। অন্যদের কাছেও একটি কঠোর একটা বার্তাও যাবে।

গতকাল দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে দলের ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে লিপ্ত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক দলের ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে শওকত মাহমুদ বলেন, এটি (বহিষ্কারাদেশ) দুঃখজনক।

বিষয়ঃ বিএনপি

Share This Article


চতুর্থ ধাপে উপজেলা চেয়ারম্যান হলেন যারা

প্রথম চার ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ১৭.৩১ শতাংশ: ইসি সচিব

চতুর্থ ধাপে ৬০ উপজেলায় ভোট শুরু

‌জামায়াত সম্পর্কে ফখরুলের বক্তব্য অযৌক্তিক ও দ্বিচারিতাপূর্ণ

বেনজীর দোষী হলে সরকার কোনো ছাড় দেবে না: ওবায়দুল কাদের

কোনো দেশেই গণতন্ত্র পারফেক্ট নয়: ওবায়দুল কাদের

কোনো অপরাধী পার পাবে না শেখ হাসিনার আমলে: কাদের

গণমাধ্যমের মালিকদের কালো টাকার মালিক বললেন রিজভী

জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে রাজধানীবাসী

ঝড়-বৃষ্টিতে ঢাকার বায়ুমানে স্বস্তি

দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিএনপির ব্যর্থ : ওবায়দুল কাদের

২১৭ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি