১৪ ডিসেম্বর ৭১ : টার্গেট মেধাশূণ্য এক বাংলাদেশ!

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সকাল ০৯:২৮, মঙ্গলবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ২৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
রায়েরবাজার সংলগ্ন শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌদ
রায়েরবাজার সংলগ্ন শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌদ

মোহাম্মাদ এনামুল হক এনা: ১৪ ডিসেম্বর, শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস। বাঙালি জাতির জীবনে অত্যান্ত শোকাবহ একটি দিন। দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের  হারানোর দিন। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। এই দিনটিতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী, বাঙালি জাতির জাগরণের অগ্রদূত এ দেশের সূর্য সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল। আর এ কাজে তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছিল এ দেশীয় দোসর রাজাকার, আল বদর, আল সামস বাহিনী।

পাকহানাদার বাহিনী যখন বুঝতে পেরেছিল তাদের পরাজয় অনিবার্য তখনই পরিকল্পিতভাবে তারা জাতিকে মেধাশূণ্য করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। নবগঠিত এ দেশটি যাতে শিক্ষা ও সংস্কৃতির দিক থেকে দুর্বল থাকে, কখনো মাথা তুলে না দাঁড়াতে পারে, সেজন্য তারা জাতির সূর্যসন্তানদের নিধন করার এক কুৎসিত পরিকল্পনা হাতে নেয়। তাদের পরিকল্পনার মূল সহযোগী ছিলো আল বদর বাহিনী, যাদের সহযোগিতা ছাড়া এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো না।

পাকিস্তান বাহিনী ১১ ডিসেম্বর থেকে ব্যাপকভাবে বুদ্ধিজীবী  নিধন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন শুরু করে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ১৪ ডিসেম্বর রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের এ দেশিয় দোসরদের সঙ্গে নিয়ে দেশের বরেণ্য সকল শিক্ষাবিদ, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিক, কবি ও সাহিত্যিকদের চোখ বেঁধে নিজ নিজ বাড়ি থেকে তুলে আনে এবং পৈশাচিক নির্যাতনের পর হত্যা করে।

পরিকল্পিত এ হত্যাকান্ডটি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে বুদ্ধিজীবী  হত্যাকান্ড নামে পরিচিত। প্রতিটি বাঙালি ১৪ ডিসেম্বরকে পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শহিদ বুদ্ধিজীবী  দিবস হিসেবে স্মরণ করে। পাশাপাশি কোটি কোটি দেশ- প্রেমিক বাঙালি  ইতিহাসের এই বর্বোরচিত হত্যাকান্ডের কুলাংগারদের প্রতি ঘৃণা জানায়।

১৪ ডিসেম্বর হত্যাযজ্ঞের পর ঢাকার মিরপুর ও রায়ের বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে তারা বুদ্ধিজীবীদের লাশ ফেলে যায়। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের পর শহিদদের নিকট আত্মীয়রা মিরপুর ও রায়ের বাজারে স্বজনদের লাশ খুঁজে পায়। এ সূর্য সন্তানরাই জাতীর যে কোন বিপর্যয়ে অগ্রনী ভুমিকা পালন করে জাতীকে আলোর পথ দেখিয়েছিলেন। বাঙালির ভাষা আন্দোলনে, স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তাদের নেতৃত্বেই বাঙালিরা জাতীয়তাবোধে উদ্ভুদ্ধ হয়ে নিজেদের দাবি ও অধিকার সম্পের্কে সচেতন হয়ে উঠতে থাকে। এ জন্য যুদ্ধের শুরু থেকেই মেধাবী ব্যক্তিবর্গের প্রতি পাকবাহিনির ছিল সীমাহীন ক্ষোভ।

তাই পাকিস্তানি ঘাতকদের আন্তসমর্পনের ঠিক দুই দিন আগে ১৪ ডিসেম্বর রাতে বিভৎস নারকীয় পাশবিকভাবে একসাথে এত বুদ্ধিজীবী  হত্যার ঘটনা ঘটে, যা ইতিহাসে এক জঘণ্য ও বর্বর ঘটনা হিসেবে প্রকাশ পায়। পৃথিবীতে এর আগে একসাথে এত বুদ্ধিজীবী হত্যার ঘটনা ঘটেনি।

মেধাশূন্য এক দেশ তৈরিতে যাদের হত্যা করা হয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, সাহিত্যিক মুনীর চৌধুরী, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, আনোয়ার পাশা, ইতিহাসবিদ আবুল খায়ের, সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য, গিয়াসউদ্দিন আহমদ, চিকিৎসক মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি, আব্দুল আলিম চৌধুরী, হুমায়ুন কবীর, যোগেশচন্দ্র ঘোষ, সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সার, সেলিনা পারভীন, সিরাজুদ্দীন হোসেন, গীতিকার ও সুরকার আলতাফ মাহমুদ, রাজনীতিবিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, লেখক, চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানসহ অন্তত হাজারের অধিক বুদ্ধিজীবী।

বিষয়ঃ বাংলাদেশ

Share This Article


এবার কম খরচে হজে যাওয়া যাবে জাহাজে!

চীনের প্রভাবশালী পত্রিকায় ‘বঙ্গবন্ধু টানেল’

রেমিট্যান্স আনার অনুমতি পেল মোবাইল ব্যাংকিং

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলার দেবে নেদারল্যান্ডস

রাজশাহীতে সাইবার ফরেনসিক ল্যাব চালু

১০ ডিসেম্বর: বিএনপির কৌশল ও আওয়ামী লীগের প্রতিরোধ কৌশল

পরিস্থিতি মোকাবেলায় একগুচ্ছ নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর

সরকারি প্রণোদনায় লাভবান হবে হাওড়ের কৃষক

লোডশেডিংয়ের প্রভাব কাটছে, ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হলো জাতীয় গ্রীডে

জানুয়ারি থেকে থাকবে না ডলার সংকট!

কৃষিতে ভর করে স্বস্তি ফিরছে দেশের অর্থনীতির!

বঙ্গবন্ধু টানেল: দুই ঘণ্টার পথ এখন মাত্র আড়াই মিনিট!