স্বাধীনতার ৫০ বছর : যেভাবে ঔষধে স্বয়ংসম্পূর্ণ হলো বাংলাদেশ !

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ দুপুর ০২:৫৭, বৃহস্পতিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২১, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
ঔষধ
ঔষধ

স্বাধীনতার প্রাক্কালে দেশের চাহিদারপ্রায় ৮০ ভাগ ঔষুধইআমদানি করা হতো। সেসময় ন্যূনতম জরুরী ঔষুধের জন্যও তাকিয়ে থাকতে হতো বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর দিকে। তবে আশার কথা হচ্ছে, স্বাধীনতার ৫০ বছরে এসে বদলে গেছে এ খাতের দৃশ্যপট। বর্তমানে এই ঔষুধ শুধু দেশের সম্ভাবনাময় শিল্পগুলোর মধ্যে অন্যতমই নয়, বিশ্ব বাজারেও একটি বড় ব্র্যান্ড।

গুণে ও মানে সেরা হওয়ায় বাংলাদেশের তৈরি ঔষুধ এখন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভিয়েতনাম, আফ্রিকাসহ ১৫৭টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে। শুধু রপ্তানিই নয়, এর পাশাপাশি এখন ঔষুধের কাঁচামাল উৎপাদনেও সক্ষমতা দেখাচ্ছে দেশের ঔষধ শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো। 

জানা যায়, ১৯৭২ সালে দেশেঔষুধের বাজার ছিল ১০০ কোটি টাকার কম। এর মধ্যে ৯০শতাংশ ছিল আমদানি করা ঔষুধ। বর্তমানে ঔষুধের বাজার প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। দেশে মুদ্রায় যার পরিমাণ সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি।

বাংলাদেশেরঔষুধ শিল্পের অগ্রযাত্রার ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, স্বাধীনতার পরপর ঔষুধের বাজার প্রায় পুরোটাই বহুজাতিক কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে ১৯৮২ সালের জাতীয় ঔষুধনীতি পরিস্থিতি বদলে দেয়।

১৯৮২সালের সেই নীতিতে দেশি ঔষুধশিল্পের বিকাশে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। ফলে দেশে সহজ প্রযুক্তির ঔষুধ আসা শুরু হয়। ওই সময় তালিকা করে দেড় হাজারের বেশি বিদেশি ঔষুধ দেশে নিষিদ্ধ করা হয়। 

বলাহয়েছিল, যেসব ঔষুধ দেশি কোম্পানিগুলো তৈরি করতে পারে সেসব ঔষুধ আমদানি করা যাবে না। এগুলো ছিল ঔষুধশিল্প পর্যায়ক্রমে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ার পেছনের কারণ।

অন্যদিকে, ঔষুধনীতি হওয়ারপর ট্যাবলেট, ইনেজকট্যাবল, ক্যাপসুল, অ্যান্টিবায়োটিকের মূল্য নিয়ন্ত্রণেরও ব্যবস্থা করা হয়। এর ফলে ঔষুধথেকে অধিক বা অনৈতিক মুনাফাকরার পথ অনেকটা বন্ধহয়ে যায়।

১৯৮২সালের ঔষুধনীতিতে ১৫০টি ঔষুধকে অত্যাবশ্যকীয় ঔষুধ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। কোম্পানিগুলোর মোট উৎপাদনের ৬০ শতাংশ অত্যাবশ্যকীয়ঔষুধ উৎপাদনকে বাধ্যতামূলক করা হয়। মূলত এরপর থেকেই ঔষুধ শিল্পকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

এখন দেশেই২৮৪ ধরনের এ্যালোপ্যাথি, ইউনানি ২৮২, আয়ুর্বেদিক ২০৩, হোমিওপ্যাথিক ৭১, হারবালসহ মোট ৮৭৭ ধরনের ঔষুধ উৎপাদন হচ্ছে। এমনকি ক্যান্সারের মতো জটিল রোগেরও ঔষুধ উৎপাদন হচ্ছে বাংলাদেশে।

পিছিয়েনেই ভ্যাকসিন উৎপাদনেও। দেশীয় কোম্পানিগুলো এখন ২১ ধরনের ভ্যাকসিনউৎপাদন করছে। বর্তমানে দেশীয় কোম্পানি গ্লোব বায়োটেক করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন উৎপাদনেরও অনুমোদন দিয়েছে সরকার। আর এভাবেই ৫০ বছরে ঔষধে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে বাংলাদেশ।

বিষয়ঃ বাংলাদেশ

Share This Article