এরদোয়ানের তুরস্কে কেন বারবার পড়ছে মুদ্রার দাম

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ দুপুর ০২:৫৬, শনিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮
এরদোয়ান
এরদোয়ান

কয়েক সপ্তাহ ধরে অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক। দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েই চলেছে। লিরার মান রেকর্ড পরিমাণ কমে গেছে। ২০০৮ সালে ১ লিরায় বাংলাদেশের ৪০ টাকা পাওয়া যেত। 

গতকাল শুক্রবার ১ লিরায় ৬ টাকা ২৫ পয়সা পাওয়া গেছে। এমন অবস্থায় দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান অর্থমন্ত্রীকে সরিয়ে নতুন একজনকে নিয়োগ দিয়েছেন। 

 

কয়েক সপ্তাহের অর্থনৈতিক অস্থিরতার পর গত বুধবার (১ ডিসেম্বর) দেশটির অর্থমন্ত্রী করা হয়েছে এরদোয়ানের ডেপুটি নুরেদ্দিন নেবাতিকে।

মুদ্রাস্ফীতি বেড়েই চলার মধ্যে অর্থমন্ত্রী লুৎফি এলভান পদত্যাগ করেন। এরদোয়ান এলভানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। এলভান গত বছরের নভেম্বর থেকে অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। এরদোয়ানের জামাই বেরাত আলবায়ারাকের পদত্যাগের পর তিনি অর্থমন্ত্রী হয়েছিলেন।

এর আগে বুধবার তুরস্কের কেন্দ্রীয় ব্যাংক লিরার মান ঠিক রাখতে সমর্থন করার জন্য বাজারে হস্তক্ষেপ করেছিল। কারণ, গত এক মাসে ডলারের বিপরীতে প্রায় ৩০ শতাংশ মূল্য হারিয়েছে লিরা। এরদোয়ানের চাপে আনুষ্ঠানিকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো সুদের হার কমিয়েছে। মুদ্রাস্ফীতি ২০ শতাংশের কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও সুদের হার কমানো হয়েছে।

দাম কমতে থাকলেও এরই মধ্যে দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান তাঁর অর্থনৈতিক পরিকল্পনার পক্ষে সাফাই গেয়ে চলেছেন। গত মঙ্গলবার আবার ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ দাম হারিয়েছে লিরা। শুধু এ বছরেই ৪৫ শতাংশ দাম কমেছে তুরস্কের মুদ্রার।

এরদোয়ান বিশ্বাস করেন, উচ্চ সুদের হার উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণেই। সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা প্রচলিত অর্থনৈতিক চিন্তাধারার ঠিক বিপরীত। এরদোয়ান সুদের হার কমিয়ে সংকট সমাধানের ব্যাপারেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ২০১৯ সাল থেকে এরদোয়ান তিনজন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে বরখাস্ত করেন। তাঁরা সবাই সুদের হার কম করার বিরোধিতা করেছিলেন।

মূলত এরদোয়ানের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার কারণে অর্থনীতির এমন দুর্দশা বলে মন্তব্য বিশ্লেষকদের। তাঁর পরিকল্পনা না মানলে নানা জনকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে পদ থেকেও। গত দুই বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চারজন গভর্নর বদলিয়েছেন তিনি। কিন্তু দেশের অর্থনীতি আগের অবস্থায় ফেরানো যাচ্ছে না। গত মাসে বরখাস্ত করা হয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর সেমিহ টুমেনকে। তবে কোনো কিছুতেই মুদ্রস্ফীতি ঠেকানো যাচ্ছে না। আগের তুলনায় এ বছর মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে ৫০ শতাংশ। দেশটির সাধারণ মানুষ বলছে, ঘুম থেকে উঠেই তারা দেখছে সব জিনিসের দাম বেড়ে গেছে। বুধবার যে তেল ছিল ৪০ লিরা, গতকাল তারা সেই তেল ৮০ লিরায় কিনছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত এরদোয়ানের অর্থনীতি নিয়ে ভ্রান্ত চিন্তার কারণে বর্তমানে এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে। তুর্কি প্রেসিডেন্টের ধারণা, ঋণের ক্ষেত্রে সুদের পরিমাণ কম রাখলেই অর্থনীতি ফুলে–ফেঁপে ওঠে। তাঁর ধারণা, মুদ্রার দাম কম হওয়া মানে আর্থিক বৃদ্ধি নিশ্চিত হওয়া। কিন্তু অর্থনীতিবিদেরা বলছেন আসলে ঘটনাটি উল্টো। তাঁরা বলছেন, এরদোয়ানের এমন নীতির কারণ তুরস্ককে ডুবিয়েছে। মুদ্রাস্ফীতির ফলে জিনিসের দাম বাড়ছে। মুদ্রার দাম কমে যাওয়ায় আমদানি করতে অনেক বেশি অর্থ লাগছে। জ্বালানি তেল থেকে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যর দাম বেড়ে যাচ্ছে হু হু করে।

এমন অবস্থায় বিরোধী দলগুলো আগাম নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে। তারা বলছে, এরদোয়ানের কারণে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এটিকে ‘অর্থনৈতিক মুক্তি সংগ্রাম’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কোথায় যেতে চান, এর প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে, এর চূড়ান্ত ফলাফলে জাতি কী পাবে, সে সম্পর্কে তিনি সচেতন। তথ্যসূত্র: এএফপি ও রয়টার্স

Share This Article


পাকিস্তানে নতুন জোট সরকার, পরাজয়েও জয় বন্দি ইমরানের

পবিত্র রমজানে আল-আকসায় প্রবেশে বিধিনিষেধ দেবে ইসরায়েল

কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে, ইসরায়েল থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করলো ব্রাজিল

কিমকে গাড়ি উপহার দিলেন পুতিন

আবারও বন্ধ আইফেল টাওয়ার

আফগানিস্তানে ভূমিধসে অন্তত ২৫ জন নিহত

মিয়ানমারে তিন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের মৃত্যুদণ্ড

মিয়ানমার ইস্যুতে ভারত-বাংলাদেশকে একসঙ্গে কাজ করার পরামর্শ

১৩৫ দিনে ২৯ হাজার সাধারণ ফিলিস্তিনির মৃত্যু

ফ্রান্সে কারখানায় আগুন, ছিল ৯০০ টন ব্যাটারি

তালেবানহীন আফগান সম্মেলন কাতারে

আত্মসমর্পণ করায় ৩ ব্রিগেডিয়ার জেনারেলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে মিয়ানমার জান্তা