পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর অবসর সুবিধা নিয়ে রায় আজ

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সকাল ১০:৫১, বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ৯ ফাল্গুন ১৪৩০

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাঁচ লাখ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতনের ১০ শতাংশ কর্তনের বিপরীতে আর্থিক ও অবসর সুবিধা নির্দিষ্ট সময়ে পরিশোধ সংক্রান্ত রিটের আদেশ আজ।

 

রুলের চূড়ান্ত গত মঙ্গলবার আজকের (২২ ফেব্রুয়ারি) তারিখ ধার্য করেছেন বিচারপতি নাইমা হায়দার এবং বিচারপতি জিনাত হকের ডিভিশন বেঞ্চ। এ তথ্য জানিয়েছেন রিটের পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া।

তিনি বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট প্রবিধানমালা, ১৯৯৯ এর প্রবিধান-৬ এবং বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা প্রবিধানমালা, ২০০৫ এর প্রবিধান-৮ অনুযায়ী শিক্ষক ও কর্মচারীদের মূল বেতনের ২ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ কর্তনের বিধান ছিল। বিপরীতে ট্রাস্টের তহবিল থেকে শিক্ষক ও কর্মচারীদের কিছু আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হতো।

কিন্তু ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল উল্লিখিত প্রবিধানমালাগুলোর শিক্ষক ও কর্মচারীদের মূল বেতনের ২ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ কাটার বিধানগুলো সংশোধনপূর্বক ৪ শতাংশ এবং ৬ শতাংশ করে দু’টি জ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে শিক্ষক ও কর্মচারীদের মূল বেতনের ২ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ কাটার পরিবর্তে ৪ শতাংশ এবং ৬ শতাংশ কর্তনের বিধান করা হয়।

কিন্তু উক্ত অতিরিক্ত অর্থ কেটে রাখার বিপরীতে শিক্ষক ও কর্মচারীদের কোনো বাড়তি আর্থিক সুবিধা প্রদানের বিধান করা হয়নি। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারীদের এপ্রিল/২০১৯ মাসের বেতন হতে ৬ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ টাকা অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে জমা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেয়। ফলে অতিরিক্ত অর্থ কর্তনের বিপরীতে কোনো আর্থিক সুবিধা না বাড়িয়েই শিক্ষক ও কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ টাকা কর্তনের আদেশের কারণে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্ততঃ ৫ লাখ শিক্ষক ও কর্মচারী আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার শঙ্কা থেকে ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত অর্থ কাটার আদেশ বাতিল করার জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে তারা বিভিন্ন সময়ে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেন। তাতেও কর্তৃপক্ষ নীরব থাকলে, শিক্ষক ও কর্মচারীরা ২০১৯ সালের ১৫ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনটি চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন।

রিটের শুনানি নিয়ে ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মো: মোস্তাফিজুর রহমানের তৎকালীন ডিভিশন বেঞ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনটি কেন অবৈধ হবে না এই মর্মে রুল জারি করেন। পরবর্তীতে নতুন একটি প্রবিধানমালা জারি করে শিক্ষক ও কর্মচারীদের অবসরের ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে কেটে নেয়া ৬ শতাংশ এবং ৪ শতাংশ সর্বমোট ১০ শতাংশ অর্থের বিপরীতে সুবিধা চেয়ে সাপ্লিমেন্টারি রিট করেন। শুনানি শেষে বিচারপতি জাফর আহমেদ এবং বিচারপতি মো: আখতারুজ্জামানের তৎকালীন ডিভিশন বেঞ্চ বিবাদীদের প্রতি রুল জারি করেন। উভয় রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে আদেশের তারিখ ধার্য হয়।

বিষয়ঃ বাংলাদেশ

Share This Article