যুদ্ধবিরতির শেষে একদিনে গাজায় নিহত ১৭৮

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সকাল ০৯:৫৬, শনিবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৩, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩০

হামাস যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুযায়ী আরও জিম্মি ছাড়ার কোনও তালিকা সরবরাহ করেনি। একই সঙ্গে হামাস আগে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে রকেট হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ ইসরায়েলের।

টানা সাত দিনের যুদ্ধবিরতি শেষে পুনরায় সংঘাতে জড়িয়েছে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস। নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতের একদিনেই অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ১৭৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়াও এই সময়ে সেখানে আহত হয়েছে ৫৮৯ জন।

টানা ৪৮ দিন যুদ্ধ শেষে গত ২৪ নভেম্বর থেকে চার দিনের সাময়কি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস ও ইসরায়েল। এরপর প্রথম দফায় দুদিন বাড়ানোর হয় সেই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ। দ্বিতীয় দফায় আরও একদিনের জন্য সামিয়ক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হয়। স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার সকাল ৭টায় এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হয়।

দ্বিতীয় দফায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে হামাস এই বিরতি অব্যাহত রাখার জন্য জিম্মি হস্তান্তরের তালিকা সরবরাহ করেনি বলে অভিযোগ ইসরায়েলের।

শুক্রবার সকালে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতেই আবারও যুদ্ধে জড়ানোর ঘোষণা দেয় ইসরায়েল। তাদের অভিযোগ, হামাস যুদ্ধবিরতির চুক্তি অনুযায়ী আরও জিম্মি ছাড়ার কোনও তালিকা সরবরাহ করেনি। একই সঙ্গে হামাস আগে ইসরায়েলের ভূখণ্ডে রকেট হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ ইসরায়েলের।

ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, শুক্রবার সকালে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর হিলোটের বাসিন্দারা সাইরেনের শব্দে জেগে ওঠেন। গাজা থেকে রকেট ছোড়া হয়েছিল এবং ক্ষেপণাস্ত্র সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই রকেট আঘাত হানার আগেই তা ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।

অন্যদিকে, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, হামাস দাবি করেছে ইসরায়েল উত্তর গাজায় জ্বালানি সরবরাহ করতে বাধা দিয়েছে। সেই সঙ্গে আগের চুক্তি অনুযায়ী তাদের অবশিষ্ট বন্দিদের মুক্তি দিতে চাইছে না। তারা নতুন চুক্তি করে অবশিষ্ট জিম্মিদের মুক্তি দেওয়ার শর্ত দিয়েছে, যা মানছে না ইসরায়েল।

গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে আরও জানা গেছে, ইসরায়েল যত সংখ্যক ফিলিস্তিনিকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছে, প্রায় তত সংখ্যক ফিলিস্তিনিকে তারা আবারও গ্রেফতার করেছে। ফলে এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই হামাস নতুন শর্ত দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, সাত দিনের যুদ্ধবিরতিতে হামাস ও গাজার অন্যান্য প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো ৮০ ইসরায়েলি এবং যুদ্ধবিরতি কাঠামোর বাইরে থাকা অন্যান্য জাতীয়তার আরও ২৮ জিম্মিকে মুক্তি দিয়েছে। আর ইসরায়েল  কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছে ২৪০ ফিলিস্তিনিকে।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের অভ্যন্তরে অতর্কিত হামলা চালায় ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠী হামাস ও অন্যান্য প্রতিরোধ গোষ্ঠীর যোদ্ধারা। এতে ইসরায়েলে এক হাজার দুই শতাধিক মানুষ নিহত হয়। ওই দিন ২৪০ জনের বেশি ইসরায়েলি ও বিভিন্ন দেশের নাগরিককে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে আসে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর যোদ্ধারা। 

গত ৭ অক্টোবর থেকেই ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নির্বিচারে বোমা হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এর মধ্যেই ২৮ অক্টোবর থেকে অবরুদ্ধ ওই উপত্যকায় স্থল হামলাও শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। ইতোমধ্যে এই যুদ্ধে সেখানে ১৫ হাজার আট শতাধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১০ হাজারের বেশি নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন আরও ৩০ হাজারের বেশি মানুষ। সূত্র: আল জাজিরা

Share This Article


মিয়ানমারে বাধ্যতামূলক সেনা নিয়োগের ঘোষণায় পালাচ্ছেন যুবকরা

‘কে আমাকে বাবা বলে ডাকবে?’

হাঙ্গেরির অনুমোদন, ন্যাটোতে যোগদানে আর বাধা নেই সুইডেনের!

ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসনের ২ বছর আজ

ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে তুমুল বিক্ষোভ

আবারও হুতিদের উপর বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য

নিজ ঘরে হার নিকির, এগিয়ে গেলেন ট্রাম্প

মেয়রকে ইসলামপন্থী বলে বরখাস্ত হলেন ব্রিটিশ এমপি

রোজা উপলক্ষ্যে ১০ হাজার পণ্যের দাম কমেছে আরব আমিরাতে

দুধের অভাবে গাজায় দুই মাসের ফিলিস্তিনি শিশুর মৃত্যু

অস্ট্রেলিয়ায় দাবানলে পুড়ছে বাড়িঘর

ঘোড়া জবাই করে শিশুদের খাদ্য জোগাচ্ছে ফিলিস্তিনিরা