এবার দীর্ঘ হতে পারে শীত তবে ঠাণ্ডার মাত্রা কম থাকবে

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সকাল ১০:২৪, সোমবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০২১, ১২ পৌষ ১৪২৮
এবার দীর্ঘ হতে পারে শীত
এবার দীর্ঘ হতে পারে শীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: লা নিনার প্রভাবে বাংলাদেশে এবার শীত দীর্ঘ হতে পারে। তা সত্ত্বেও ঠাণ্ডার মাত্রা কম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এসব কারণে এবারের শীতকালে অল্প সময়ের জন্য হঠাৎ হঠাৎ খুব ঠাণ্ডা পড়তে পারে, তবে দেশের সর্বত্র নয়। অন্য দিকে ভারত মহাসাগরে দ্বিমেরুর (ডাইপোল) প্রভাবের কারণে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চলের দিকে এ বছর স্বাভাবিক অপেক্ষা শীত কম থাকতে পারে। অন্য দিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় এ বছর লা নিনা বেশ সক্রিয় বলে বাংলাদেশের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে মাঝে মাঝে ঠাণ্ডা পড়তে পারে।

আবহাওয়াবিদেরা বলছেন, একই লা নিনার কারণে এবার হিমালয়ের কোলজুড়ে থাকা উত্তর ভারতে তুষারপাত কম হতে পারে কিন্তু থাকবে প্রবল শৈত্যপ্রবাহ। হিমালয়ের কোল ঘেঁষে ভারতের বিভিন্ন এলাকার শৈত্যপ্রবাহের ছোঁয়া বাংলাদেশের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের জেলাগুলোতে লাগবে। ফলে এই দুই বিভাগের অঞ্চলগুলোতে ঠাণ্ডা থাকবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ভারতের কাশ্মির, লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ, সিকিম, পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশে তুষারপাত দেখা যায় শীতের সময়। এবার হয়তো সেসব অঞ্চলে তুষারপাত কম দেখা যেতে পারে কিন্তু সেখানে অনুভূত হতে পারে হাঁড় কাঁপানো শীত। এটা হতে পারে প্রশান্ত মহাসাগরের লা নিনার প্রভাবে। উল্লেখ্য, প্রশান্ত মহাসগারে লা নিনা পরপর দুই বছর ধরে সক্রিয় রয়েছে। ফলে ঠাণ্ডাও থাকবে একটু বেশি সময়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লা নিনার প্রভাব আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসেও থাকতে পারে।

কানাডার সাসকাচোয়ান ইউনিভার্সিটির আবহাওয়ার ওপর পিএইচডি গবেষণারত মোস্তফা কামাল পলাশ বলেছেন, ভারত মহাসাগরে জলবায়ুর দ্বিমেরুর প্রভাবে এবারের শীতে বঙ্গোপসাগর থেকে বাংলাদেশে শীতের সময়ে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি জলীয় বাষ্প চলে আসতে পারে। যা ইতোমধ্যে আসতে শুরু করেছে। যে কারণে গত ২০ ডিসেম্বর থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলে বয়ে চলা মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ একদিনের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। কারণ ঠিক সে সময়ই আন্দামান সাগরের দিকে একটি লঘুচাপ থেকে সুস্পষ্ট লঘুচাপের সৃষ্টি হয়। এই প্রক্রিয়াটি এর চেয়ে বেশি শক্তিশালী হতে পারেনি বরং দুর্বল হয়ে গুরুত্বহীন হয়ে পড়ে একদিন পরই। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে কিছু জলীয় বাষ্প বাংলাদেশে আকাশে ছড়িয়ে পড়লে ঠাণ্ডা হাওয়া সংবলিত শৈত্যপ্রবাহ বিলীন হয়ে যায়।

আশা করা হয়েছিল, জাওয়াদ নামক ঘূর্ণিঝড়ের পর বঙ্গোপসাগরীয় এলাকা শান্ত থাকবে (ডিসেম্বর মাসে মৌসুমী লঘুচাপ ছাড়া কোনো লঘুচাপ হয় না এই অর্থে)। তাতে বাদ সাধে ভারত মহাসাগরের দ্বিমেরুর (ডাইপোল) প্রভাব। এই দ্বিমেরু প্রভাবের কারণেই ভারত মহাসাগরের আন্দামান, বঙ্গোপসাগর ও আরব সাগরের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উষ্ণ হয়ে আছে।

মোস্তফা জানিয়েছেন, পূর্ব ভারত মহাসাগরের সমুদ্র পৃষ্ঠের পানির তাপমাত্রা যখন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে সেই সময় পশ্চিম ভারত মহাসাগরের সমুদ্র পৃষ্ঠের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে। কয়েক বছর পরপর পূর্ব ও পশ্চিমের পানির তাপমাত্রার বিনিময় হয়। যেমন বর্তমানে পূর্ব ভারত মহাসাগরের সমুদ্র পৃষ্ঠের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ০.৫ থেকে ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রয়েছে। কিন্তু ২০১৯ সালের জুলাই মাসে একই স্থানের সমুদ্র পৃষ্ঠের পানির তাপমাত্রা ৩০ বছরের গড় তাপমাত্রা অপেক্ষা প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম ছিল। কয়েক বছর পরপর সমুদ্র পৃষ্ঠের পানির তাপমাত্রার পার্থক্যের মান পরিবর্তিত হয় বলে এটাকে ভারত মহাসাগরীয় দোলন বা স্পন্দনও বা দ্বিমেরু প্রভাব বলা হয়ে থাকে।

মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, এ বছর শীত মৌসুমে লা নিনার প্রভাবও বেশ স্পষ্ট। পূর্ব প্রশান্ত মহাসগারের সমুদ্র পৃষ্ঠের পানির তাপমাত্রা এ বছর গত ৩০ বছরের গড় তাপমাত্রার অপেক্ষা কম। প্রশান্ত মহাসাগরে লা নিনার প্রভাবটা আমাদের দেশেও বেশ স্পষ্ট করে বুঝা যাচ্ছে। এই লা নিনার প্রভাবের কারণেই দেশের উত্তরাঞ্চলে বিশেষ করে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে এ বছর স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ঠাণ্ডা পড়তে পারে। অন্য দিকে পূর্ব ভারত মহাসগারের সমুদ্র পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৩০ বছরের গড় তাপমাত্রা অপেক্ষা বেশি থাকায় চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতেও স্বাভাবিকের চেয়ে ঠাণ্ডা কম পড়তে পারে অর্থাৎ এই অঞ্চলে শীত কম অনুভূত হবে।

Share This Article