অল্প সময়ের মাঝে সারাবিশ্বে আমরা ঋণ দেবো: অর্থমন্ত্রী

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সকাল ০৯:৪৫, শুক্রবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২১, ৯ পৌষ ১৪২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের অর্থনীতির সব সূচক আশানুরূপ উন্নতি হয়েছে। এ বছরে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৫০ বিলিয়ন ডলার হওয়ার আশা করেছিলাম, সেটা হয়নি। তবে চলতি অর্থবছরে রিজার্ভ ৫০ বিলিয়ন ডলার হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) মিলনায়তনে বাংলাদেশ ব্যাংক পুরস্কার-২০২০ প্রধান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের জিডিপির তুলনায় আমাদের বিদেশি ঋণ খুব কম; মাত্র ৩৬-৩৭ শতাংশ। এত কম ঋণ কোনো দেশের নেই। আমরা এখন রিজার্ভ থেকে ঋণ দেওয়া শুরু করেছি। মেগা প্রকল্পেও রিজার্ভ থেকে ঋণ পাচ্ছে।

মুস্তফা কামাল বলেছেন, আমরা এখন ঋণ করছি। তবে সময় বেশি বাকি নেই, ইনশাআল্লাহ, অল্প সময়ের মাঝে আমরা সারাবিশ্বে ঋণ দেবো। আমরা কিন্তু সেইভাবে এগুতে শুরু করেছি। আমাদের গভর্নর মহোদয় সব সময় আমাদের কো-অপারেট করছেন। আমরা মেগা প্রকল্পেও অর্থায়ন করছি। সবই হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ও পদক্ষেপের মাধ্যমে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন সোনার বাংলা বিনির্মাণে। আমরা বিশ্বাস করি আজকে যে ডেভলপমেন্ট জার্নি দেখছি, এটা হঠাৎ করেই এই অবস্থানে আসার বিষয় নয়। এখানে অনেকের অবদান আছে। জাতির পিতার পাঁচশালা পরিকল্পনা অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ দেখেছেন। সেখানে তিনি সুস্পষ্টভাবে নির্দেশনা রেখে গেছেন কিভাবে দেশের উন্নয়নে পরিকল্পনা করতে হবে, কিভাবে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। তিনি (বঙ্গবন্ধু) তার কাজ সম্পন্ন করতে পারেন নাই। জাতির পিতা সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতেন কিন্তু কাজটি তিনি করে যেতে পারেননি। আমরা তাকে সেই সুযোগ দেয়নি। আজকে তারই অসমাপ্ত আত্মজীবনী সম্পন্ন করার দায়িত্ব নিয়েছেন তারই রক্তের উত্তরাধিকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে চলছেন। যাতে করে আমরা ২০৪১ সালে সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পারি, সেই সুবর্ণরেখাটি স্পর্শ করতে পারি।

দেশের মৌলিক অর্থনীতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক পুরস্কার-২০২০ পেয়েছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, 'এত দিন যে উন্নয়নের সাফল্য পেয়েছি, সেখানে সাধারণ মানুষের ভূমিকা ছিল। উন্নয়নের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো এখানকার কৃষক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শিল্প উদ্যোক্তারা যখন যে সুযোগ পেয়েছেন, তার পূর্ণ ব্যবহার করেছেন। আর সরকার এ ক্ষেত্রে নীতি-সহায়তা দিয়েছে। এটিই হলো বাংলাদেশের সাফল্যের মূল কথা। এখানকার সবার মধ্যে উন্নয়নের একটা আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষাটা একটা বড় সুযোগ।'

তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন সাফল্য নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। তবে মনে রাখতে হবে, উন্নয়নের কৌশল সব সময় সমান উপযোগী হতে হয়। সময়ে সময়ে পরিবর্তন, পরিবর্ধন প্রয়োজনে করতে হয়। উচ্চ ফলন শস্যে প্রযুক্তির ব্যবহার, বিদেশে শ্রমবাজারের সুযোগ, তৈরি পোশাক রপ্তানি, ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুযোগ এসব ছিল এর মধ্যে। এর সঙ্গে আরও একটি বিষয় হলো বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা আছে। এটা অন্য দেশের মানুষের মধ্যে নেই। এই উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা একটা বড় শক্তি। এটা হয়তো মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা-সংগ্রাম থেকে এসেছে, এখনও আছে।

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, 'আমি এই পুরস্কার নিতে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছি। কারণ, এই পুরস্কার প্রবর্তনের সঙ্গে আমি ও সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন যুক্ত ছিলাম। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, স্বাধীনতার ৫০ বছরে এই পুরস্কার পাচ্ছি। আমি বাংলাদেশ ব্যাংকে দেড় দশক ছিলাম। যে কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনার বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংককে দ্বিতীয় কর্মস্থল বলে মনে করি।'

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, আমরা উন্নয়নের নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছি, বিশ্ব অর্থনীতিও বদলে যাচ্ছে। এই উন্নয়নে নানা চ্যালেঞ্জ আছে। যেমন- প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, মানসম্পন্ন শিক্ষা, উপযুক্ত শিক্ষার মাধ্যমে মানবসম্পদ তৈরি করার পাশাপাশি প্রশাসনের দক্ষতা ও জবাবদহি বাড়ানো। বিশ্ব আর্থিক অস্থিরতা সামাল দেওয়ার জন্য উন্নতমানের আর্থিক খাত গড়ে তোলা দরকার।

ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন কীভাবে হয়, এত দিন এ নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। তবে এখন বিশ্ব অর্থনীতিবিদরা প্রায় সবাই একমত যে উন্নয়নের কোনো ধরাবাঁধা ছক নেই। এমনকি বিশ্বব্যাংক ২০১৬ সালে এক প্রতিবেদনে বলেছে, একই নীতি ভিন্ন ভিন্ন দেশে ভিন্ন ফল দেয়। এ জন্য অন্য দেশের মডেল অনুসরণ করে লাভ নেই। নিজেদের অভিজ্ঞতার আলোকে নিজেদের উন্নয়ন মডেল করতে হবে।

বাংলাদেশের মৌলিক অর্থনীতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদকে 'বাংলাদেশ ব্যাংক পুরস্কার-২০২০' দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির। বক্তব্য দেন ডেপুটি গভর্নর কাজী ছাইদুর রহমান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাজমা বেগম। পুরস্কার হিসেবে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের হাতে স্বর্ণপদক, ক্রেস্ট ও পাঁচ লাখ টাকা তুলে দেন অর্থমন্ত্রী ও গভর্নর।

এর আগে 'বাংলাদেশ ব্যাংক পুরস্কার-২০১৭' যৌথভাবে দেওয়া হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইডের ইমেরিটাস অধ্যাপক আজিজুর রহমান খান ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও ব্র্যাকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মাহবুব হোসেনকে (মরণোত্তর)।

বিষয়ঃ বাংলাদেশ

Share This Article