বিলুপ্ত ১০০ প্রজাতির ধান পুনরায় মাঠে ফিরছে !

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সকাল ০৯:২৩, বৃহস্পতিবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২১, ৮ পৌষ ১৪২৮
বেগুনী রঙের পাতায় নজর কাড়া ধান গাছ
বেগুনী রঙের পাতায় নজর কাড়া ধান গাছ

বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের বিলুপ্ত ১০০ প্রজাতির স্থানীয় জাতের ধান মাঠে ফেরাতে সংরক্ষণ ও গবেষণা করছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট(ব্রি)| আর এ গবেষণায় তারা সফলতাও পেয়েছেন।

ইতোমধ্যে ব্রি ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জ জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে সরাসরি কৃষকের মাঠ থেকে এবং কৃষি সম্প্রসারণের সহযোগিতায় এসব ধান সংগ্রহ করে ব্রি, গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ে এনেছে|

এ কার্যালয়ে জাতগুলোর বীজ বর্ধন ও বৈশিষ্ট্যায়নের কাজ চলছে| এখান থেকে এগুলো পিওর লাইন সিলেকশনের মাধ্যমে সম্ভাবনাময় বিশুদ্ধ জাত শনাক্তকরণ করা হবে| গবেষণার মাধ্যমে জাতগুলো উচ্চফলনশীল জাতে রূপান্তরিত করে ভবিষ্যতে অবমুক্ত করা হবে|

এছাড়া কৃষকের মাঠে জনপ্রিয় বিলুপ্ত প্রজাতির স্থানীয় ধানের জাতের মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা হবে| কৃষক এখান থেকে তার পছন্দের স্থানীয় জাত বেছে নিয়ে চাষাবাদ করে অধিক ধান উৎপাদন করবেন| এভাবেই স্থানীয় বিলুপ্ত জাতের ধানের চাষাবাদ ফিরে আসবে|

ব্রি, গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ও সিনিয়র সাইন্টিফিক ড. মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে আগে সাড়ে ১২ হাজার প্রজাতির স্থানীয় ও দেশীয় ধান আবাদ হতো| বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট স্থানীয় ও দেশীয় ৮ হাজার ধানের জাত সংগ্রহ করে জিন ব্যাংক গড়ে তুলেছে| কৃষকের মাঠে বিদ্যমান একটি জাতকে বিলুপ্তি থেকে রক্ষা করা বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের একটি বড় কাজ| এ লক্ষ্যে আমরা স্থানীয় ও দেশি ধানের জাত সংগ্রহ করে মূল্যায়ন ও বৈশিষ্ট্যায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি| এটি ধান গবেষণার জিন ব্যাংক সমৃদ্ধকরণে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে| এছাড়া স্থানীয় ও দেশি জাতের ধানের উন্নয়ন ঘটিয়ে নতুন করে বিলুপ্ত জাত কৃষকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে| এতে কৃষক স্থানীয় ও দেশি উচ্চফলনশীল ধানের আবাদ করে আমন মৌসুমে অধিক ধান ঘরে তুলবেন। এতে কৃষকের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে| ব্রি, গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের সায়িন্টিফিক অফিসার ফারুক হোসেন খান বলেন, স্থানীয় জাতের ধানের মধ্যে অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে| এই পুষ্টিগুণের বৈশিষ্ট্যগুলো উচ্চফলনশীল জাতের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে স্থানীয় জাতকে উচ্চফলনশীল জাতে পরিণত করা হবে| এতে বিলুপ্ত জাতের বৈশিষ্ট্য ফিরে আসবে ভাতের মাধ্যমে পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে|

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া গ্রামের কৃষক মো. দবির উদ্দিন শেখ বলেন, বোরো ধান কাটার পর আমরা জমিতে দীঘাধান ছিটিয়ে দেই| কোনো পরিচর্যা ছাড়াই বিঘাপ্রতি ৮/১০ মণ ধান পাই| ব্রি, গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয় আমাদের কাছ থেকে দীঘা ধানের অন্তত ১৫টি জাত সংগ্রহ করে গবেষণা করছে| এ ধানের উচ্চফলনশীল জাত পেলে আমাদের ধানের উৎপাদন বহু গুণে বেড়ে যাবে| সেই সঙ্গে এ ধান আবাদ করে লাভবান হতে পারব|ইত্তেফাক/এমএএম

বিষয়ঃ বাংলাদেশ

Share This Article