বাংলাদেশ কেন ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে ধনী?

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সকাল ১০:২৫, বুধবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২১, ৭ পৌষ ১৪২৮
ফাইল ফটো
ফাইল ফটো

বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে পাকিস্তানের দ্য নিউজ পত্রিকায় একটি কলাম লিখেছেন সাংবাদিক ও কলামিস্ট কুমেইল সুমরো। এতে তিনি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেছেন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা টেনেছেন। কলামটি গত ৭ জুন প্রকাশিত হয়।

 

দীর্ঘ বঞ্চনা এবং মুক্তি সংগ্রামের পর ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের কাছ থেকে আলাদা হয় বাংলাদেশ। সে সময় একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতে বিধ্বস্ত আর মাত্রাতিরিক্ত জনসংখ্যায় জর্জরিত দরিদ্র এই ‍দেশটিকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ আখ্যা দিয়েছিলেন আমেরিকার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার।

চলতি বছরের মার্চে স্বাধীনতার অর্ধ শতাব্দী উদযাপন করেছে বাংলাদেশ। আর এই সময়ে এসে বিভিন্ন সূচকে পাকিস্তানের চেয়েও এগিয়ে গেছে এই দেশ।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর তথ্য মতে, ২০২১ সালে ৩২২ বিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত হয়েছে বাংলাদেশ। আজকের দিনে সাধারণ মানুষের মধ্যে তুলনা করলে দেখা যায়- পাকিস্তানের চেয়ে বাংলাদেশের মানুষ অনেকাংশেই ধনী।

চলতি মাসেই প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি ৯ শতাংশ বেড়ে গড় আয় দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২২৭ আমেরিকান ডলার। আর পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় এখন ১ হাজার ৫৪৩ ডলার।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের চেয়ে ৭০ শতাংশ ধনী ছিল পাকিস্তান। কিন্তু আজকের দিনে পাকিস্তানের চেয়ে ৪৫ শতাংশ ধনী এখন বাংলাদেশ। মাথাপিছু আয়ের হিসাবে বাংলাদেশ এখন এমনকি ভারতের চেয়েও ধনী। ২০২০-২১ অর্থবছরে ভারতের মাথাপিছু আয় ছিল ১ হাজার ৯৪৭ ডলার।

উন্নয়নেও বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ছাড়িয়ে গেছে। এই দেশ এখন ২৬তম বৃহত্তর অর্থনীতির দেশে পরিণত হবে।

২০১৭ সালের মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের পয়েন্ট ছিল দশমিক ৬০৮। অন্যদিকে ২০১৮ সালের মানব উন্নয়ন সূচকে পাকিস্তানের পয়েন্ট ছিল দশমিক ৫৬০। এদিক থেকেও মাঝামাঝি অবস্থানে থাকা পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

মনে করা হয়, ২৫ দশমিক ৬ শতাংশ আয় বৈষম্যের কারণে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে পাকিস্তান। অন্যদিকে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, আয় বৈষম্য কমানো দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম।

বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরতাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে বাংলাদেশ। ১৯৭২ সালে বিদেশি সাহায্যের ওপর যেখানে ৮৮ শতাংশ নির্ভরতা ছিল, ২০১০ সালেই তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ শতাংশে। আর পাকিস্তানের অর্থনীতি এখনও অনেকাংশেই বিদেশি সাহায্যনির্ভর। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে বিপুল আর্থিক সহায়তা নিচ্ছে। এভাবে দেশটির অর্থনীতি আরও ভঙ্গুর হয়ে উঠছে।

রপ্তানি, সামাজিক অগ্রগতি আর আর্থিক ব্যবস্থাপনা- এই তিনটিই বাংলাদেশের বিকাশে মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে। ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের রপ্তানি প্রতি বছর গড়ে ৮ দশমিক ৬ শতাংশ হারে বেড়েছে। এই সাফল্যে বড় অবদান রেখেছে তৈরি পোশাকশিল্প।

চলতি বছরের মার্চে প্রকাশিত ব্যবস্থাপনা পরামর্শক সংস্থা ‘ম্যাককিনসে অ্যান্ড কোং’-এর প্রতিবেদন বলছে, গত এক দশকের হিসাবে রপ্তানি খাতে বাংলাদেশের বার্ষিক বৃদ্ধির হার ছিল ৭ শতাংশ। আর এই রপ্তানি আয়ের ৮৪ শতাংশই এসেছে তৈরি পোশাক থেকে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণও নিরবচ্ছিন্নভাবে বাড়ছে। আর এ ক্ষেত্রে বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে ভারত ও পাকিস্তানে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ সরকারি ঋণের পরিমাণ জিডিপির ৩০ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিপরীতে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশেরই সরকারি ঋণের পরিমাণ তাদের জিডিপির ৯০ শতাংশের সমপরিমাণ প্রায়।

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবদান রাখছেন প্রবাসীরা। গত জুলাইয়ে শেষ হওয়া ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই আগের সব রেকর্ড ভেঙে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। অবৈধ হুন্ডি ব্যবসা বন্ধের ফলেই রেমিট্যান্সে এমন সফলতা এসেছে।

২০২০-২১ অর্থবছরে ভারতের অর্থনীতি ৭ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে, গত কয়েক দশকের মধ্যে যা সবচেয়ে বাজে ফলাফল। আর একই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি অন্তত ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বিকশিত হয়েছে।

গত ২৫ মে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ২০০ মিলিয়ন ডলারের মুদ্রা বিনিময় চুক্তির অনুমোদন দেয়। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার, আর শ্রীলঙ্কার রিজার্ভ ৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

বাংলাদেশের এমন অভূতপূর্ব উত্থানের নেপথ্যে দেশের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও ভূমিকা রেখেছে। ইসলামি চরমপন্থি ও অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের ওপর ক্র্যাকডাউনের মাধ্যমেই এ ধরনের স্থিতিশীলতা বজায় ছিল রাজনৈতিক অঙ্গনে। যদিও এ ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো কিছু অভিযোগ রয়েছে। এ সবকিছুই এখন পাকিস্তানের জন্য বড় একটি শিক্ষা। এ থেকেই তারা বুঝতে পারবে গত পাঁচ দশকে তারা কী কী ভুল করেছে।

Share This Article


রেমিট্যান্স আনার অনুমতি পেল মোবাইল ব্যাংকিং

ডেঙ্গুতে আরও ৩ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৫২৩

পর্যটন মেলা শুরু ১ ডিসেম্বর

এএসপি পদমর্যাদার ৫০ কর্মকর্তার পদায়ন

২৪ ঘণ্টায় আরও একজনের মৃত্যু, শনাক্ত ১১

৪১তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষা শুরু ৫ ডিসেম্বর

১০ টাকায় টিকিট কেটে চক্ষু পরীক্ষা করালেন প্রধানমন্ত্রী

বন্দি জঙ্গিরা যেন রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতা চালাতে না পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

‘প্রতিবেশী প্রথম’ নীতিতে বিশেষ স্থান বাংলাদেশের: মুর্মু

রোহিঙ্গাদের সহায়তায় সাড়ে ৭ মিলিয়ন ডলার দেবে নেদারল্যান্ডস

তেল গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়াতে-কমাতে পারবে সরকার, সংশোধন হচ্ছে আইন

করোনায় মৃত্যু ১, শনাক্ত ২৯ জন