বঙ্গোপসাগরে হাজার মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুতের খোঁজ !

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সন্ধ্যা ০৭:৩৫, সোমবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২১, ৫ পৌষ ১৪২৮
তিন পাখাওয়ালা টারবাইন
তিন পাখাওয়ালা টারবাইন

জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে সারা বিশ্ব যখন দিশেহারা ঠিক তখনই বঙ্গাপসাগরে বাংলাদেশের অংশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বায়ু বিদ্যুতের বিশাল ভাণ্ডার খুঁজে পেয়েছেন একদল গবেষক, যেখানে ২০ হাজার মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা করছেন তারা।

বাংলাদেশ এনার্জি ফোরামের করা ওই গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ু বিদ্যুৎ উৎপন্নের জন্য প্রতি সেকেন্ডে বাতাসের যে গতিবেগ প্রয়োজন বঙ্গোপসাগরের উক্ত সেই স্থানে একই মাত্রার বাতাস থাকছে। এমনকি এ মাত্রা অপরিবর্তিতই থাকছে, যা বায়ু বিদ্যুৎ তৈরির জন্য আদর্শ বলে মনে করছেন গবেষকরা।

সমুদ্র বা বড় কোন খোলা স্থানে তিন পাখাওয়ালা খাম্বার ন্যায় বড় একটি বস্তু থাকে, যেগুলোকে বলা হয় টারবাইন। প্রতিটি টারবাইনে তিনটা করে পাখা থাকে।এগুলোর উচ্চতা একশো ফুট থেকে ৪১০ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে এবং পাখার আয়তন ৫০ থেকে ১১০ ফুট হয়ে থাকে।

মূলত বায়ুর গতিকে কাজে লাগিয়ে টারবাইনের জেনারেটর ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। এ ক্ষেত্রে বায়ু যখন টারবাইনের ব্লেডের মধ্যে দিয়ে যায় তখন বায়ুর গতিশক্তি ঐ ব্লেডগুলোকে ঘুরায়। আর ঐ ব্লেডগুলোর সাথে রোটর সংযুক্ত থাকে যা ব্লেডগুলোর ঘূর্ণনের ফলে সক্রিয় হয়। এই রোটর জেনারেটরের সাথে সংযুক্ত থাকে, যার ঘূর্ণনের ফলে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়।

সাধারণত বাতাসের গতিবেগ ২.৩ থেকে ২. ৫ মিটার/ সেকেন্ড হলেই বায়ু বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। তবে বঙ্গোপসাগরের সেই বিশেষ অঞ্চলে বাতাসের গতিবেগ প্রতি সেকেন্ডে ৭ মিটারের চেয়েও বেশি, যার ফলে স্থানটি বিদ্যুত উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট উপযোগী। এখন আধুনিক প্রযুক্তি সম্বলিত টারবাইন স্থাপন করে এ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

উল্লেখ্য, বর্তমান বাংলাদেশে কুতুবদিয়া ও ফেনীতে বায়ু বিদ্যুতের দুটি প্রকল্প চালু রয়েছে। কুতুবদিয়ায় এক মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি কেন্দ্র এবং ফেনীতে এক মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি কেন্দ্র রয়েছে। তবে এগুলোর প্রযুক্তির অনেক আগের এবং বেশ পুরনো।

Share This Article