ভুয়া চিকিৎসায় জেল-জরিমানার বিধান করে ইউনানি-আয়ুর্বেদিক আইন

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সন্ধ্যা ০৬:৩৮, রবিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২১, ৪ পৌষ ১৪২৮

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা শিক্ষা আইনের খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

রোববার (১৯ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ আইনের খসড়া অনুমোদন দেয়া হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন।

এতে অনুমতি ছাড়া ওষুধ সেবনের পরামর্শ (প্রেসক্রিপশন) করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি সভায় অংশ নেন। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষ থেকে সভায় যুক্ত হন মন্ত্রীরা।

সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রস্তাবিত আইন অনুসারে স্বীকৃতি ছাড়া কোনো সংস্থা, প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি মিথ্যা উপাধি ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, এখানে একটি বোর্ড থাকবে। এছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) মতো এখানেও একটি কাউন্সিল থাকবে। এ কাউন্সিল একাডেমিক বিষয়গুলো দেখভাল করবে।

বাংলাদেশ চিকিৎসা অ্যাক্রেডিটেশন আইনের খসড়াও নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এছাড়া মালদ্বীপের কারাগারে আটক সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশি বন্দীদের দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি সইয়ের জন্য চুক্তির খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন মালদ্বীপ সফরের সময় এ চুক্তি হবে বলে আশা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি আরও জানান, মালদ্বীপে সাজাপ্রাপ্ত বাংলাদেশি আছেন ৪৩ জন। আর ৪০ জন বিচারাধীন। তবে মালদ্বীপের কোনো নাগরিক বাংলাদেশে বন্দী নেই।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, চুক্তি অনুযায়ী উভয় দেশের মধ্যে বন্দী বিনিময় করা যাবে।

তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী কয়েকদিনের মধ্যে মালদ্বীপ সফর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ থেকে মালদ্বীপে ‘কোয়ালিফাইড হেলথ প্রফেশনাল’ গ্রহণের জন্য সংশোধিত একটি চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটা মালদ্বীপের সঙ্গে আমাদের কোয়ালিফাইড হেলথ প্রফেশনাল গ্রহণের জন্য একটা চুক্তি। চুক্তিটি মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মালদ্বীপ গেলে সেখানে এই চুক্তিটা স্বাক্ষরিত হবে। সেই ক্ষেত্রে আমাদের দেশের মেডিক্যাল প্রফেশনাল ক্যাটাগরির বেশকিছু লোক সেখানে যেতে পারবেন।

তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে একটা এমওইউ ছিল, যার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের হেলথ প্রফেশনাল যেতেন। মালদ্বীপ ২০২৪ সাল পর্যন্ত মেয়াদ বৃদ্ধি করার এবং এটিকে একটি চুক্তির মধ্যে নিয়ে আসার জন্য আগ্রহী।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ডব্লিউএইচও এবং তাদের সংশ্লিষ্ট যত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সংস্থা আছে, তাদের একটা সিদ্ধান্ত আছে যে, ২০২৪ সালের মধ্যে সবাইকে একটা মিনিমাম সিস্টেমের মধ্যে, অ্যাক্রেডিটেশনের মধ্যে আসতে হবে।

যদি কোন দেশ সেই অ্যাক্রেডিটেশনের মধ্যে না আসে তাহলে সেই দেশের ডাক্তার কিংবা কোন হেলথ টেকনিক্যাল লোকজন অন্যদেশে রিকোগনাইজড (স্বীকৃত) হবে না। তারা বিদেশে চাকরি করতে যেতে পারবে না। শিক্ষার্থীরা অন্য দেশে গিয়ে শিক্ষাও গ্রহণ করতে পারবে না। ২০২৩ সাল পর্যন্ত এই শর্ত ছিল, কোভিডের কারণে তা ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বিষয়ঃ বাংলাদেশ

Share This Article