ধর্ষণে সহযোগিতা: এএসআই ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সন্ধ্যা ০৬:৩৭, রবিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২১, ৪ পৌষ ১৪২৮
ফাইল ফটো
ফাইল ফটো

আদালত প্রতিবেদক

ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ওলিউল্লাহ সরকার সোহেল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম তামান্না ফারাহর আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী এক কলেজছাত্রী।

 

মামলায় আসামি করা হয়েছে ওলিউল্লাহর স্ত্রী রোকেয়া ও শ্যালক হাফিজুর রহমান মেহেদীকে। বাদীপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করে আগামী ২৬ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে এএসআই ওলিউল্লাহর স্ত্রী রোকেয়ার পরিচয় হওয়ার পর তাদের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে গত ২৫ জানুয়ারি একসঙ্গে বাসা ভাড়া নেন তারা। রোকেয়ার ভাই মেহেদী বোনের বাসায় মাঝেমধ্যে আসা-যাওয়া করতেন। ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে রোকেয়া তার ভাইকে অবিবাহিত বলে পরিচয় করান।

একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠলে মেহেদী অনৈতিক প্রস্তাব দেন মেয়েটিকে। এতে রাজি না হয়ে তিনি বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরে মেহেদী বিয়ের কথা বলে ওই ছাত্রীর ছবি নিয়ে গত ২১ মার্চ একটি হলফনামা তৈরি করেন। মেহেদী দাবি করেন তাদের বিয়ে হয়েছে। ছয় লাখ টাকার একটি কাবিননামাও দেখান। তবে বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন ছাত্রীকে। তারা একসঙ্গে থাকা শুরু করেন। একপর্যায়ে মেয়েটির কাছ থেকে দুই ধাপে এক লাখ টাকা নেন মেহেদী। তার বোন রোকেয়াও ৫০ হাজার টাকা ঋণ হিসেবে নেন।

এরই মধ্যে ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গত ৩০ অক্টোবর ওলিউল্লাহ ও রোকেয়া তাকে জোর করে ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত ঘটান। পরে ২ নভেম্বর মেহেদী তার কর্মস্থল ময়মনসিংহে চলে যান। ৬ নভেম্বর তিনি জানান, মেয়েটিকে তিনি বিয়ে করেননি। ভুয়া হলফনামা তৈরি করেছেন। বিষয়টি নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হলে বাসা থেকে ওই ছাত্রীকে বের করে দেন তারা।

মামলায় বাদী অভিযোগ করেন, জালিয়াতির মাধ্যমে হলফনামা তৈরি করে তার কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন আসামিরা। এ ছাড়া তাকে বিয়ের কথা বলে ধর্ষণ করা হয়েছে। এতে সহযোগিতা করেন এএসআই ওলিউল্লাহ ও স্ত্রী রোকেয়া।

Share This Article