বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত সিলেটে

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ রাত ০৮:০৩, শনিবার, ২১ মে, ২০২২, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

সিলেটে পাহাড়ি ঢল হ্রাস পেয়েছে। তবে সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত। 

শনিবার (২১ মে) দুপুরে রোদ উঠলেও ভোরে ও বিকালে বৃষ্টি হয়েছে এ অঞ্চলে। 

বন্যার কারণে বিশুদ্ধ পানির অভাব, রাস্তা-ঘাট ও বাঁধ ভেঙে বানভাসী মানুষ কষ্টে দিন পার করছেন। সেই সঙ্গে বাজার মূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে এলাকাবাসীর নাভিশ্বাস উঠেছে। অনেক জায়গায় ত্রাণের স্বল্পতা রয়েছে। দুপুরে বন্যাকবলিত কোম্পনীগঞ্জে জেলা পরিষদের সামনে ত্রাণ বিতরণের সময় হাঙ্গামা হয়। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়রা জানান, ত্রাণের তুলনায় সাহায্যপ্রার্থী বেশি ছিলেন।

এদিকে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ধলাই নদীতে পানি বেড়ে ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রতিরক্ষা বাঁধের ১০টি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। পৌর এলাকার করিমপুরসহ ৫টি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে হুমকির মুখে রয়েছে এলাকাবাসী। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অতিরিক্ত প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, ফাটল অংশ দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা হচ্ছে। পৌরসভার কাউন্সিলর দেওয়ান আব্দুর রহিম মুহিন জানান, করিমপুর এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ ধসে ৮-১০ ফুট বাঁধের মাটি পানিতে ভেসে গেছে। যেকোনো মুর্হুতে বাঁধটি ভেঙে যেতে পারে।

মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, লক্ষ্মীপুরে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বাঁধটি মেরামতের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে।

এদিকে সিলেটের সুরমা নদীর পানি কিছুটা কমায় নগরসহ আশেপাশের এলাকা থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে আগের অবস্থায় ফিরতে সিলেটের আরও অন্তত ৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সিলেটে ও সুনামগঞ্জের অন্তত ১৫ লক্ষাধিক পানিবন্দী মানুষকে অন্তত ১০ দিন অপেক্ষা করতে হবে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, সিলেটে ৩৩টি বাঁধ ভেঙে এবং ১৫ কিলোমিটার বাঁধ উপচে বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকেছে। বাঁধ ছাড়াও পাহাড়ি নদী-খাল ও ‘ছড়া’দিয়ে পানি নেমে শহর-গ্রাম জনপদে বন্যা দেখা দেয়। বন্যা কবলিত এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট চলছে। নৌযান সংকটও রয়েছে। শনিবার সিলেটের বিভিন্ন হাটে নৌকা বিক্রি হতে দেখা যায়। 

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান বলেন, ‘সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে প্লাবিত এলাকাগুলো থেকে পানি এখনও নামেনি। সরকার বন্যার্তদের সব ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। সিলেটের ১৩টি উপজেলার ৮৫টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ৩২৬টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।’ 

বিকেলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এস এম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তবে আরও কয়েকদিন পানিবন্দী থাকতে হবে বন্যার্তদের। যেসব স্থানে বাঁধ ভেঙেছে, সেখানে নতুন করে বাঁধ দেওয়া হচ্ছে।’ 

তিনি বলেন, ‘সিলেটে নদী, খাল ড্রেজিংয়ের লক্ষ্যে নতুন একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। ফিজিবিলিটি স্টাডির কাজ চলছে। সুরমার ড্রেজিং হলে সিলেটের বন্যার প্রকোপ কম হবে।’  

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, আজ বিকাল ৩টায় কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর আমলসীদ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১ দশমিক ৫৬ সেন্টিমিটার, শেওলায় ৫৫ সেন্টিমিটার ও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। 

বিষয়ঃ দুর্যোগ

Share This Article