সমর্থকদের শক্তিতেই শিরোপা জিতল ফ্রাঙ্কফুর্ট

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সকাল ১১:২০, শুক্রবার, ২০ মে, ২০২২, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

৪৪ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন ইউরো বা ৪১৫ কোটি টাকা—বর্তমান সময়ে ইউরোপের শীর্ষ লিগে একজন মাঝারি তারকা ফুটবলারের দামও এর চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। 

অথচ গত পরশু ইউরোপা লিগের ফাইনালে এইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের শুরুর একাদশের সম্মিলিত দামই ছিল ৪১৫ কোটি টাকা। ইউরোপীয় ফুটবলে অর্থের ঝনঝনানির মধ্যে তুলনামূলক কম বাজেটের ফ্রাঙ্কফুর্ট ইউরোপা লিগ জিতে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছে। পেনাল্টিতে তারা রেঞ্জার্সকে হারিয়েছে ৫-৪ গোলে।

ইউরোপে দলবদলের বাজার প্রতিনিয়ত ফুটবলের অর্থনৈতিক পরিসরকে বড় করে তোলায় ব্যস্ত। সাফল্য পেতে চাইলে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করে দলে খেলোয়াড় ভেড়াও—এ নীতিতেই হাঁটছে বেশির ভাগ দল। প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) বা ম্যানচেস্টার সিটির মতো দল খেলোয়াড় কেনা অর্থের পাগলা ঘোড়ায় লাগাম টানার ধারও ধারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে বড় উদাহরণ হতে পারে এইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট। যারা আরেকবার বুঝিয়ে দিল শিরোপা জিততে অর্থই সব সময় শেষ কথা নয়। পিএসজি ও ম্যানসিটির মতো দল ইউরোপে এখনো শিরোপাহীন হলেও ফ্রাঙ্কফুর্ট লম্বা সময় পর আবারও ইউরোপীয় শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে।

আধুনিক ফুটবলে ফ্রাঙ্কফুর্ট খুব পরিচিত দল না হলেও ইউরোপে তাদের উজ্জ্বল ইতিহাস আছে। পঞ্চাশের দশকে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ফুটবল খেলেছে তারা। বর্তমান চ্যাম্পিয়নস লিগ ও তখনকার ইউরোপিয়ান কাপে ১৯৫৯-৬০ মৌসুমে রানার্সআপও হয়েছিল দলটি। ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে জিতেছিল ইউরোপা লিগের শিরোপাও। সেই গৌরব অবশ্য পরে হারিয়ে ফেলে তারা। তবে অন্তত এক মৌসুম হলেও নিজেদের সেই পুরোনো স্মৃতি আরেকবার ফিরিয়ে এনেছে ফ্রাঙ্কফুর্ট।

শিরোপা জেতার আগে থেকেই অবশ্য যথেষ্ট আলোচনায় ছিল ফ্রাঙ্কফুর্ট। বার্সেলোনার মতো দলকে বিদায় করেছে তারা। এমনকি ন্যু ক্যাম্পে দর্শকদের দিয়েও দাপট দেখিয়েছে ফ্রাঙ্কফুর্ট। ফাইনালেও দেখা গেছে দর্শকদের ঝাঁজ। স্পেনের আরেক শহর সেভিয়াতেই বসেছিল ফাইনালের আয়োজন।

৪২ হাজার দর্শক ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন র‍্যামন সানচেজ-পিজুয়ান স্টেডিয়ামে সমান ১০ হাজার করে ফাইনালের টিকিট পেয়েছিল ফ্রাঙ্কফুর্ট ও রেঞ্জারস সমর্থকেরা। কিন্তু পুলিশ বলছে, সব মিলিয়ে এই ম্যাচ দেখতে আন্দালুসিয়ান রাজধানীতে হাজির হয়েছিল অন্তত দেড় লাখ মানুষ! টিকিটহীন এসব সমর্থকের বেশির ভাগই দখল করেছিল সেভিয়ার ক্যাফে আর পানশালা। ম্যাচের আগের রাতে রেঞ্জার্সের একদল সমর্থকের ওপর হামলা চালিয়েছিল ২০০ জার্মান উগ্র সমর্থক। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয় পাঁচ জার্মান। সেই ঘটনার প্রভাব পড়েছে ম্যাচের আগে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে একে অপরের দিকে ক্যাফে-রেস্তোরাঁর চেয়ার ছোড়াছুড়ি করছেন দুই দলের সমর্থক। ১-১ গোলে সমতা থাকার পর পেনাল্টি শুটআউটে হয়েছে নিষ্পত্তি। যাতে বাজিমাত করেছে জার্মান ক্লাবটি।

Share This Article