কৃষিতেই স্বপ্ন বোনেন সুবর্ণচরের কৃষক

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সকাল ০৯:৩৮, বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯

নোয়াখালী প্রতিনিধি:
সুবর্ণচর একসময় নোয়াখালী সদরের সঙ্গে থাকলেও ২০০৬ সালে পৃথক উপজেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। মেঘনার তীর ঘেঁষে লবণমাটিতে বসবাস উপজেলার অধিকাংশ মানুষের, যাদের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ও মৎস্য আহরণ। তাই সরকার চাচ্ছিল চরাঞ্চলের এই কৃষকদের একটি কাঠামোর মধ্যে এনে প্রশিক্ষিত করতে। সে লক্ষ্যেই ২০১৪ সালে সুবর্ণচরে একটি খামার স্থাপন করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)। 

 

মানসম্পন্ন ডাল ও তৈলবীজ উৎপাদন নিশ্চিত এবং খামার ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে কৃষি মন্ত্রণালয়। উপজেলার কৃষকরা বলেন, আগে আমরা সয়াবিন চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হতাম। গুনতে হতো লোকসান। বিএডিসির সহায়তায় এবং পরামর্শে এখন আমাদের ফলন অনেক ভালো এবং দামও ভালো পাচ্ছি। এ ছাড়া বিএডিসির পরামর্শ এবং সহায়তায় আমাদের ধানের ফলন ও মৌসুমি ফসলও অনেক ভালো হচ্ছে।

জানা যায়, জাতীয় উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদে ‘ডাল ও তৈলবীজ বর্ধন খামার আধুনিকীকরণ এবং চুক্তিবদ্ধ চাষিদের মাধ্যমে বীজ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প নেওয়া হয়। এর আওতায় সুবর্ণচরে চলছে নানা কার্যক্রম। 

শুরুতে ডাল ও তৈলবীজ বর্ধন খামার এবং বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ নিয়ে কাজ করলেও; লবণাক্ততার কারণে এর পাশাপাশি ধান, সূর্যমুখী, সয়াবিন, সরিষা, মুগ, খেসারি উৎপাদন নিয়েও এখন কাজ চলছে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মহিষ, ভেড়া, হাঁস, মুরগি, তিথি এবং কবুতর পালনের কার্যক্রম। নানা জাতের ধান, মৌসুমি ফসল, দেশি পাখি, গবাধিপশু ও ফুল-ফলসহ সুবর্ণচরকে কৃষিতে সমৃদ্ধ ভূমিতে পরিণত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে বিএডিসি। এরই মধ্যে কৃষকরা এর সুফল পেতেও শুরু করেছেন। 

এ ছাড়াও সুবর্ণচরের চুক্তিবদ্ধ চাষিদের কাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করে তা সারাদেশে সরবরাহ করে প্রতিষ্ঠানটি। এর বাইরে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের বীজ বিতরণ, অনাবাদি জমিকে সেচের আওতায় আনা ও রাসায়নিক সার বিতরণের পাশাপাশি তারা চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে।

খামারে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ শ্রমিকের কর্মস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ইকোলজিক্যাল ফার্ম সম্প্রসারণ করে ইতোমধ্যে খামারটির জীব-বৈচিত্র্যের সীমিত কার্যক্রমকে প্রস্তাবিত প্রকল্পের মাধ্যমে আরও অধিক পরিমাণে জার্মপ্লাজম সংগ্রহ করা হচ্ছে। 

এ ছাড়াও নার্সারি সম্প্রসারণ, হাঁস-মুরগি ও প্রাণী পালন, গবাদিপশু ও পোল্ট্রির নিঃসরিত বর্জ্য দিয়ে একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট সম্প্রসারণ, লেক ও খাল খনন, মাটির লবণাক্ততা দূরীকরণ, জমিতে পর্যাপ্ত পরিমাণ জৈব সার প্রয়োগ, লিচিং পদ্ধতি গ্রহণ, লবণাক্ত সহিষ্ণু জাত নির্বাচন, রাসায়নিক সার ব্যবহার এবং শুষ্ক মৌসুমে জমি পতিত না রাখার মতো নানা কার্যক্রম চলমান। অন্যদিকে বিএডিসির খামারটি স্থানীয়দের কাছে দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। তাই বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন এটি দেখতে আসেন অনেক দর্শনার্থী।

প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য সম্পর্কে সংশ্লিষ্টরা জানান, সুবর্ণচরে স্থাপিত খামার সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের মাধ্যমে ডাল ও তৈলবীজসহ অন্যান্য ফসলের উচ্চ ফলনশীল জাতগুলোর মানসম্মত বীজ ৭১০ মেট্রিক টন উৎপাদন নিশ্চিত করা। চুক্তিবদ্ধ চাষি, এনজিওকর্মী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ ১ হাজার ৮০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া। পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ করে খামার ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ। খামার ও প্রকল্প এলাকায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষক ও চুক্তিবদ্ধ চাষিদের জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়ানো।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক মো. আজিমউদ্দিন বলেন, ‘এটি খামার আধুনিকরণ প্রকল্পের একটি অংশ। পরিবেশকে অক্ষুণœ রেখে এখানে আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে চাষবাদ করা হয়। নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুর জেলার চরঞ্চলের চাষিদের মাধ্যমে গুণগত মানসম্পন্ন ডাল ও তৈলবীজ উৎপাদন নিশ্চিত করা হয়। খামার ও পার্শ¦বর্তী এলাকার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং কীভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে হয়, সে বিষয়ের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তাই যে লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হয়েছে, তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে পারব বলে আশা করছি।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘খামারটিতে ডাল ও তৈলবীজসহ ধানের ভিত্তি বীজ উৎপাদন করা হচ্ছে। আর এসব বীজ এলাকার আবহাওয়া ও কৃষকের জমিতে পরিবর্ধনের মাধ্যমে মানঘোষিত বীজ উৎপাদন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উৎপাদিত উন্নতমানের বীজ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিক্রি ও বিতরণ করা হচ্ছে।’

Share This Article


পাঁচ ইলেকট্রোলাইট ড্রিংকস নিষিদ্ধ চেয়ে মামলা, মালিকদের তলব

চলতি মাসে প্রথম ১০ দিনে প্রবাসী আয় এলো ৮১ কোটি ৩৭ লাখ ডলার

‘সরকারী প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে আসলে অর্থনীতিতে গতি আসবে’

বিদায় বেলায় বাংলাদেশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ পিটার হাস

জাতীয় বাজেট ঘোষণা ৬ জুন

আইএমএফের ঋণের তৃতীয় কিস্তি নিয়ে উদ্বেগ নেই: অর্থ প্রতিমন্ত্রী

সিঙ্গাপুর-কাতার থেকে তিন কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার

আইএমএফের ঋণের তৃতীয় কিস্তি পাচ্ছে বাংলাদেশ

শেয়ার বাজারে লেনদেন ছাড়িয়েছে ১১শ কোটি টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার।

নতুন বিনিময় পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

শেয়ার বাজারে লেনদেন ছাড়াল ৮০০ কোটি টাকা

রপ্তানি ১০০ বিলিয়নে পৌঁছাবে ২০৩০ সালে