তিন লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের টার্গেট

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সকাল ১০:১৮, রবিবার, ৮ মে, ২০২২, ২৫ বৈশাখ ১৪২৯

করোনা সংকট কাটলেও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অর্থনীতিতে নতুন শঙ্কা যোগ করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। ফলে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়বে। অর্থনীতির এমন কঠিন সময়েও আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে তিন লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আয়ের বড় টার্গেট দেওয়া হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং অর্থনীতিবিদ আতিউর রহমান বলেন, ‘এটি একটি বিশেষ সময়ের বাজেট। কভিড থেকে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। আমদানি বাড়ছে। রড-সিমেন্টের দাম বাড়ছে। ফলে প্রকল্প ব্যয় বাড়বে। ’

তিনি বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। তবে দেশে এখন বাড়ানো ঠিক হবে না। কৃষি খাতেও হাত দেওয়া যাবে না। তাই এবার ভর্তুকি বাড়বে। সব মিলিয়ে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা দিতে হবে বাস্তবসম্মত। অবাস্তব লক্ষ্য দিলে তা কখনোই অর্জিত হয় না। ’

সূত্র মতে, করোনার কারণে গত দুই অর্থবছর ব্যবসা-বাণিজ্য ধুঁকেছে। ফলে দুই অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাড়ায়নি সরকার। তবে এবার বাড়ছে। এর একটি বড় কারণ হলো বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধির কারণে সরকারি ভর্তুকির বোঝা লাঘবের চেষ্টা। সরকার আয় বাড়িয়ে এ বোঝা লাঘব করতে চায়। আগামী অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে চার লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এটি জিডিপির ৯.৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে তিন লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। এটি মোট জিডিপির ১১.৩ শতাংশ। সে হিসাবে আগামী অর্থবছর চলতি অর্থবছরের তুলনায় মোট রাজস্ব আয় লক্ষ্যমাত্রা ৪৪ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে ধরার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে চলতি অর্থবছরের চেয়ে এবার রাজস্ব আদায়ের হার কমানো হয়েছে প্রায় ২ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) সব মিলিয়ে এক লাখ ৫৩ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা আদায় হয়েছে। রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি ১৬.১২ শতাংশ। এ প্রবৃদ্ধি বিবেচনায় নিয়ে নতুন বাজেটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) তিন লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি জিডিপির ৮.৪ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এনবিআরের আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৯.৫ শতাংশ)। সে হিসাবে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ৪০ হাজার কোটি টাকা বাড়ছে। শতকরা হিসাবে বাড়ছে ১২ ভাগ।

এ ছাড়া আগামী বাজেটে এনবিআর-বহির্ভূত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। করবহির্ভূত রাজস্ব (এনটিআর) আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৪৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে এ দুই খাতে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে যথাক্রমে ১৬ হাজার কোটি টাকা ও ৪৩ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে নতুন বাজেটে আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ছে যথাক্রমে ১৩ শতাংশ ও ৫ শতাংশ।

বিষয়ঃ বাংলাদেশ

Share This Article


বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৫.৭ শতাংশ হতে পারে

ঈদের আগে ছু‌টির ৩ দি‌ন নতুন সূ‌চি‌তে চেক ক্লিয়ারিং

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ৩ লাখের বেশি নিবন্ধন

খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: আইনমন্ত্রী

দাম কমছে মোটরসাইকেলের

সোনার দাম আরও কমল

এবারের বাজেট পরিমিত-বাস্তবসম্মত ও গণমুখী: ওবায়দুল কাদের

আনুষ্ঠানিকভাবে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ প্রথম দেয় জিয়ার সামরিক সরকার!

‘অপ্রদর্শিত আয় দেশে রাখতে বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ’

‘বাজেটে মূল্যস্ফীতিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়া হয়েছে’

বছরের শেষদিকে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে : অর্থমন্ত্রী

সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন শুরু