গ্যাস সংকটে আশার আলো

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ দুপুর ০১:০৮, শুক্রবার, ৬ মে, ২০২২, ২৩ বৈশাখ ১৪২৯

ঢাকা ও আশপাশের জেলাগুলোতে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। কিন্তু বিপরীত চিত্র ভোলায়। সেখানে বিশাল গ্যাসের মজুত অব্যবহূত পড়ে আছে। কারণ স্থানীয় পর্যায়ে ততটা চাহিদা নেই। এই গ্যাসকে দেশের কেন্দ্রীয় অংশে এনে ঘাটতি পূরণের কথা ভাবছে সরকার। এ জন্য ফেনী পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 

একই সঙ্গে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রগুলোর আরও গভীরে হাইপ্রেশার জোনে (উচ্চচাপ এলাকা) অনুসন্ধান চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানকারী সংস্থা বাপেক্স বলছে, পাঁচটি গ্যাসক্ষেত্রে ৫টি গভীর কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলোর আরও গভীরে অনুসন্ধান করলে বেশ ভালো পরিমাণ গ্যাস পাওয়ার যাবে, যা ঘাটতি মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে। এতে ব্যয়বহুল এলএনজির (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।


দেশের অন্যতম গ্যাসসমৃদ্ধ এলাকা ভোলা। এখানকার শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র থেকে বর্তমানে দৈনিক সাড়ে ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস তোলা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, এই গ্যাসক্ষেত্রে দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুটের মতো গ্যাস রয়েছে। শুধু শাহবাজপুর নয়; পুরো ভোলাতেই গ্যাস পাওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হয়। বাপেক্সের তথ্য-উপাত্ত বলছে, ভোলায় আরও দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৪২০ কোটি ঘনফুট। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে পেট্রোবাংলা সরবরাহ করছে ২৩০ কোটি ঘনফুট। ঘাটতি পূরণে ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) করা হচ্ছে। এলএনজিসহ দৈনিক গ্যাস দেওয়া হচ্ছে ৩১১ কোটি ঘনফুট।


বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সমকালকে বলেন, ভোলায় যে গ্যাস পাওয়া গেছে সেই গ্যাস পাইপলাইন না থাকার কারণে কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এ জন্য বরিশাল হয়ে ফেনী পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া সম্ভব হবে।

সূত্র জানিয়েছে, ভোলার গ্যাস জাতীয় পর্যায়ে ব্যবহার করতে জ্বালানি বিভাগ দুই ধরনের সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। একটা হলো এলএনজিতে রূপান্তরিত করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা; অন্যটি নদীর তলদেশ দিয়ে পাইপলাইন নির্মাণ করে গ্যাস আনা। এলএনজি করা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক না হওয়ায় সে উদ্যোগ বাতিল করা হয়েছে। এখন পাইপলাইনের বিষয়ে ভাবা হচ্ছে।

২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একটি সভায় বলা হয়, ভোলার শাহবাজপুর গ্যাসফিল্ড থেকে ভোলা নর্থ গ্যাসফিল্ড হয়ে ফেনী পর্যন্ত সঞ্চালন লাইন নির্মাণ বিষয়ে ইতোমধ্যে ফিজিবিলিটি স্টাডি সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিইজিআইএস, আইআইএফসির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আইএলএফ কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ারিং জার্মানিকে দিয়ে এই সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে।

ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন নির্মাণে গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি (জিটিসিএল) সম্ভাব্যতা যাচাই করেছে। ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে সে রিপোর্ট পেট্রোবাংলায় জমা দেওয়া হয়।

ভোলায় গ্যাসের সন্ধানে প্রথম ভূকম্পন জরিপ চালানো হয় ১৯৮৬-৮৭ সালে। প্রথম অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয় ১৯৯৪ সালে। এর পর আরও তিনটি কূপ খনন করা হয়েছে। ২০০৯ সালের ১১ মে ভোলার শাহবাজপুর ক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন শুরু করে বাপেক্স।

বর্তমানে ভোলায় পিডিবির ১৯৫ মেগাওয়াটের একটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। ভেঞ্চার এনার্জি নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৩৪ মেগাওয়াটের একটি রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া শাহপুরজি পালনজি নামে একটি ভারতীয় কোম্পানি বেসরকারি খাতে ২২৫ মেগাওয়াটের একটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ পেয়েছে।

অনুসন্ধানের উদ্যোগ :জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, ক্রমান্বয়ে গ্যাসক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমছে। হঠাৎ ৩০০-৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কমে যেতে পারে। এমন হলে ঘাটতি মেটানো খুব কঠিন হবে। শুধু এলএনজি আমদানি করে এ ঘাটতি পূরণ করা যাবে না। তিনি বলেন, হাইপ্রেশার জোনে কাজ করা ঝুঁকিপূর্ণ, তবে একেবারে অসম্ভব নয়। প্রয়োজনে বাপেক্সকে বিদেশি কোম্পানির সহযোগিতা নিতে হবে।

বাপেক্সের একজন ভূতত্ত্ববিদ জানিয়েছেন, এখন যেসব কূপ খনন করা হয় সেগুলোর চাপ থাকে সাধারণ তিন হাজার থেকে ৪ হাজার পিএসআই (প্রতি বর্গইঞ্চিতে গ্যাস চাপের ইউনিট)। সর্বোচ্চ চাপ পাওয়া গ্যাস ভোলায়; পাঁচ হাজার পিএসআই। উচ্চচাপ এলাকা অতিক্রম করতে হলে ১৫ হাজার পিএসআই গ্যাসের চাপ সহ্য করতে হবে। সাধারণত বাংলাদেশের মাটির পাঁচ হাজার মিটারের নিচে হাইপ্রেশার জোন রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম বলেন, দেশের অনেক আবিস্কৃত গ্যাসক্ষেত্রে আমরা হাইপ্রেশার জোন পেয়েছি। দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এমন অজুহাতে হাইপ্রেশার জোন পর্যন্ত কূপ খনন করা হয়নি। ফলে হাইপ্রেশার জোনে কী পরিমাণ গ্যাস আছে, তা প্রমাণিত নয়। অনুসন্ধানের আগে এ সম্পর্কিত একটি তথ্যভান্ডার তৈরি করতে হবে।

বাপেক্সের সাবেক কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, বিশ্বের গ্যাস মজুতের এক-তৃতীয়াংশ রয়েছে উচ্চচাপযুক্ত কাঠামোতে (টাইট স্যান্ড), যা হাইপ্রেশার জোনের নিচে থাকে। বাংলাদেশে এই কাঠামোতে অনুসন্ধান চালানো হয়নি।

জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সমকালকে বলেন, দেশে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে সব রকম উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাপেক্সকে হাইপ্রেশার জোনে অনুসন্ধান কূপ খননের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য পরামর্শক নিয়োগ করতে বলা হয়েছে।

বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানান, তারা হাইপ্রেশার জোনে পাঁচটি কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছেন। এগুলো হলো- মোবারকপুর, শ্রীকাইল, তিতাস, বাখরাবাদ ও সিলেটের রশিদপুর গ্যাসক্ষেত্র। ৬ হাজার মিটার পর্যন্ত খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য রিগ ভাড়া করা হবে।

পেট্রোবাংলার তথ্যমতে, দেশের সবচেয়ে গভীর কূপ ফেঞ্চুগঞ্জ-২। কূপটি ৪ হাজার ৯৭৭ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়। এখানে তিনটি স্তরে গ্যাস পাওয়া যায়। যদিও কূপটি ৫ হাজার ৫০০ মিটার পর্যন্ত খনন করার পরিকল্পনা ছিল। বাপেক্স গঠনের আগে ১৯৮৬-৮৭ সালে এ কূপ খনন করা হয়েছিল।

সমকাল থেকে নেয়া

বিষয়ঃ উন্নয়ন

Share This Article


শেখ হাসিনার কারামুক্তি দিবস আজ

স্বদেশের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লী ত্যাগ

বাংলাদেশের চোখ ধাঁধাঁনো উন্নয়নে খুশি ইইউ, বিনিয়োগে আগ্রহী

কোরবানির পশুর ঘাটতি সামান্য, অর্ধেক জোগান দেবে স্থানীয় খামার

মোদির শপথ অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা

বিএনপির আমলে সীমান্তে হত্যা বেশি হয়েছে: ওবায়দুল কাদের

‘দুর্নীতিবাজদের বিচার করার সাহস বিএনপির ছিল না, শেখ হাসিনার আছে’

জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের নির্বাচনে বাংলাদেশের বিজয়

সোনার দাম আরও কমল

আনুষ্ঠানিকভাবে কালোটাকা সাদা করার সুযোগ প্রথম দেয় জিয়ার সামরিক সরকার!

নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

মোদির শপথে যোগ দিতে দিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী