দুপুর ০১:২৮, বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই, ২০২২, ২৩ আষাঢ়

প্রকল্পের শম্বুকগতি কাম্য নয়

ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা এক্সপ্রেসওয়ে

ফাইল ফটো
ফাইল ফটো

সম্পাদকীয়

স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ নানাভাবে উপকৃত হবেন। তবে ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত বিদ্যমান সরু সড়কের কারণে মানুষ এর কতটা সুফল পাবেন, এটি একটি প্রশ্ন।

 

ভাঙ্গা থেকে বরিশাল হয়ে সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা ও পায়রা বন্দর পর্যন্ত বর্তমান ২৩৫ কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই প্রস্থে মাত্র ২৪ ফুট। বর্তমানে এ সড়কে যাতায়াত করে প্রধানত ঢাকা ও বরিশাল বিভাগের ১০ জেলার যানবাহন। পদ্মা সেতু চালু হলে সড়কটির ব্যস্ততা কতটা বাড়বে তা সহজেই অনুমেয়; এতে সৃষ্টি হবে ভয়াবহ যানজট। দেশবাসী যাতে পদ্মা সেতুর কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে পারে, সেজন্য ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা এক্সপ্রেস সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার আগে উল্লিখিত যানজটের দুর্ভোগ যে কমবে না, এটাও সহজেই অনুমেয়।

এ প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষসহ দেশবাসী আশা করেছিল অন্তত ভাঙ্গা-বরিশাল-কুয়াকাটা এক্সপ্রেস সড়কটির নির্মাণকাজে শম্বুকগতির অভিযোগ উঠবে না। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আলোচিত এক্সপ্রেস সড়কটির প্রকল্প প্রস্তাবে ২০২০ সালের জুনের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছিল জমি অধিগ্রহণের কাজ। কিন্তু ২০২০ সাল তো দূরের কথা, ২০২২-এর মার্চে এসেও প্রস্তাবিত মহাসড়কের এক ইঞ্চি জমিও অধিগ্রহণ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে পরপর তিনবার ফেরত গেছে এ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হওয়া অর্থ। সর্বশেষে চলতি অর্থবছরে যে টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, তাও ফেরত যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

জানা গেছে, পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নানা সীমাবদ্ধতা ও ভুলের কারণে জমি অধিগ্রহণে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান যেখানে মাত্র ৩০২ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব করেছিল, সেখানে বাস্তবে এখন অধিগ্রহণ করতে হচ্ছে ১ হাজার ৯১ একর জমি। প্রশ্ন হলো, এমন প্রতিষ্ঠানকে পরামর্শকের দায়িত্ব দেওয়া হলো কেন? আগামীতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সেদিকে কর্তৃপক্ষকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। দেশে প্রকল্প বাস্তবায়নে যেসব বাধা বা জটিলতা সৃষ্টি হয় তা বহুল আলোচিত। এই গুরুতপূর্ণ প্রকল্পটি শম্বুকগতির দুর্নাম এড়াতে না পারার বিষয়টি দুঃখজনক। আলোচিত প্রকল্পের পরবর্তী কর্মকাণ্ড যাতে যথাসময়ে সম্পন্ন হয়, সেজন্য এখন থেকেই বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে। অদক্ষ ও অনভিজ্ঞ কোনো প্রতিষ্ঠান যাতে আলোচিত প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে না পারে, কর্তৃপক্ষকে তা নিশ্চিত করতে হবে।

Share This Article