দুপুর ০২:৫৭, বৃহস্পতিবার, ৭ জুলাই, ২০২২, ২৩ আষাঢ়

কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জে বন্যার আরও অবনতি

বৃষ্টির ধারা কিছুটা কমে আসায় কমছে সুরমা নদীর পানি। এর ফলে নেমে যাচ্ছে সিলেট নগরীর পানি। তবে পাল্লা দিয়ে পানি বাড়ছে কুশিয়ারায়। এতে সিলেটের কয়েকটি উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। জৈন্তাপুর, জকিগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটছে। বন্যাকবলিত হওয়ায় বিয়ানীবাজারের ১১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জকিগঞ্জের অন্তত ৪০টি স্থানে সুরমা-কুশিয়ারার বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে।

 

এ ছাড়া বৃষ্টিপাত কমলেও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের প্রধান নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। যমুনা, ধলেশ্বরী, তিস্তা, ধরলা, ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, যমুনা ও বাঙ্গালী নদীর পানি এখনো বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে ওইসব নদীতীরবর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। বরং হবিগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ছয়টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যার আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। টাঙ্গাইল, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও বগুড়ায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

টানা এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ঘরবাড়িতে পানি থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের বন্যাকবলিত মানুষ। কিছু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু এলাকায় আশ্রয় নিলেও অনেক পরিবার এখনো বসবাস করছেন নৌকায় ও ঘরের উঁচু করা মাচানে। শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন বানভাসি মানুষ।

এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে- রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার সঙ্গে প্রবল বিজলি চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। গতকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ছয়টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এ নিয়ে সাত উপজেলার ৫১টি ইউনিয়ন এখন বন্যার পানিতে নিমজ্জিত। ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলো হলো- বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, নবীগঞ্জ, লাখাই, হবিগঞ্জ সদর, বাহুবল ও মাধবপুর। এর মধ্যে আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং ও লাখাইয়ের সবকটি ইউনিয়নে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। ভাটি অঞ্চলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্র জানায়, বন্যাকবলিত এলাকায় ২২৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৭ হাজার ৩৪৭ বন্যার্ত আশ্রয় নিয়েছেন। ২৩ হাজার ২৩৫টি পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। ৭৯ হাজার ৭২০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বেসরকারি হিসাবে ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা দ্বিগুণ।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, বুধবার দুপুরে খোয়াই ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আজমিরীগঞ্জে কালনী-কুশিয়ারা নদীর পানি বিপদসীমার ১৪৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জকিগঞ্জ (সিলেট) প্রতিনিধি জানান, বৃষ্টিপাত কমলেও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের জকিগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি ঘটছে। এর ফলে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকার ডাইকে ভাঙন দেখা দিচ্ছে। গ্রামীণ সড়কের পাশাপাশি তলিয়ে গেছে জকিগঞ্জ-সিলেট সড়ক। গ্রামে চলাচলে নৌকাই একমাত্র ভরসা। ইতোমধ্যে জকিগঞ্জে ৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে ৮৮৫টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। জকিগঞ্জে অন্তত ৪০টি স্থানে সুরমা-কুশিয়ারার বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে।

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চলে পানি বেড়েই চলেছে। এর ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। গত কয়েক দিনে জেলার সাত উপজেলার ৬২ ইউনিয়নের প্রায় দুইশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন ওইসব এলাকার আড়াই লাখ মানুষ। জেলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মতিউর রহমান জানান, উজানের পানি দ্রুত হাওরে প্রবেশ করার ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, এ পর্যন্ত ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম, তাড়াইল, করিমগঞ্জ, নিকলী, বাজিতপুর ও ভৈরবের প্রায় দেড় হাজার বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, হাট-বাজার ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠেছে। ইতোমধ্যে শতাধিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম জানান, বন্যার্তদের জন্য ২৫৪টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক কুড়িগ্রাম জানান, ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

বন্যার পানি প্রবেশ করায় ২৯৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৩০টি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ রেখেছে শিক্ষা বিভাগ। বন্যার্তদের জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত থাকলেও সবার ভাগ্যে তা জুটছে না।

কুড়িগ্রাম পাউবো জানায়, বুধবার বিকাল ৩টার রিপোর্ট অনুযায়ী ব্রহ্মপূত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৫১ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্ট ১৪ সেন্টিমিটার ও ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে কাউনিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সদর উপজেলার পাঁচগাছী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন সরকার বলেন, সরকারিভাবে আমার ইউনিয়নের জন্য চার টন চাল পেয়েছি, এগুলো বুধবার ১০ কেজি করে বিতরণ করা হয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণের পরিমাণ কম হওয়ায় অনেক বানভাসি মানুষকে দেওয়া সম্ভব হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক বগুড়া জানায়, যমুনার পানি এখনো বিপদসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে পার্শ্ববর্তী বাঙ্গালী নদীতেও পানি বিপদসীমার ওপরে রয়েছে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে বগুড়া পাউবো নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবর রহমান এ তথ্য জানান।

পাউবো সূত্র জানায়, যমুনার বিপদসীমা ধরা হয় ১৬ দশমিক ৭০ মিটার। এ ছাড়া বাঙ্গালী নদীর বিপদসীমা ধরা হয় ১৫ দশমিক ৮৫৩ মিটার; কিন্তু সকাল ৬টা থেকে এ নদীতে পানি প্রবাহিত হচ্ছে নির্ধারিত সীমার ওপরে ১৫ দশমিক ৯০ মিটার উচ্চতায়।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া বলেন, চলতি বছরের বন্যায় সারিয়াকান্দি, সোনাতলা ও ধুনটের ১১টি ইউনিয়নের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। তাদের জন্য ৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত এবং দুটি রেসকিউ (উদ্ধার) বোট রাখা আছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় ৭টি টিউবওয়েল বসানো হয়েছে।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি জোকারচর পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া ঝিনাই নদীর পানি জোকারচর পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬২ সেন্টিমিটার এবং ধলেশ্বরীর পানি এলাসিন পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, বুধবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের পানি তিস্তামুখ ঘাট পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়ে ৬০ সেমি এবং ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা শহর পয়েন্টে ৪ সেমি কমে বিপদসীমার ৩৯ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এ ছাড়া তিস্তা ও করতোয়া নদীর পানি এখনো বিপদসীমার নিচে রয়েছে। বন্যাদুর্গত এলাকায় মানুষের কষ্ট দিন দিন বেড়েই চলছে। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অনেকে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে- ফুলছড়ি, সাঘাটা, সুন্দরগঞ্জ ও গাইবান্ধা সদর উপজেলার ২৩টি ইউনিয়নে ৯৬ গ্রাম বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। ২১ হাজার ৮৩৪ পরিবারের ৪৭ হাজার ৪৬৬ জন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি জানান, বন্যার কারণে ফুলছড়ির ৬৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা শিক্ষা অফিস। টানা বর্ষণ আর উজানের পাহাড়ি ঢলে প্রতিদিনই ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদীতীরবর্তী এলাকা ছাড়াও বিস্তীর্ণ জনপদে ছড়িয়ে পড়ছে। ব্রহ্মপুত্রের পানি গতকাল সকালে ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপদসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি জানান, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে সুন্দরগঞ্জে। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২ হাজার ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নিমজ্জিত হয়েছে আমন বীজতলা, পাট, বাদাম, করলা, পটল, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজিক্ষেত।

Share This Article


ঈদে এবাার নৌপথেও মোটরসাইকেল বহন নিষিদ্ধ

বগুড়ায় সুদের টাকা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা

এক যৌনকর্মীর এইডস শনাক্ত

কক্সবাজারে ছাত্রলীগ নেতা হত্যা: ১৭ জনের নামে মামলা

২৭ জুলাইয়ের ইউপি ভোটে নৌ ও যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা

প্রতি মাসে ঘরে বসেই লাখ টাকা আয় করেন শুভ

শপথ নিলেন কুমিল্লা সিটি নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলররা

পিকআপের ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত পদ্মা সেতুর টোল প্লাজার ব্যারিয়ার

হুয়াওয়ে ও বিটিসিএল’র সহযোগিতায় নেত্রকোনায় বন্যাকবলিতদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী

দেশের দুই কোটি ৯৫ লাখ মানুষ নিলেন বুস্টার ডোজ

সোনারগাঁওয়ে একটি কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ১৪ ইউনিট

খুলনায় প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে তৈরি হবে তরল জ্বালানি

একাই মাসে ১২০ কোটি টাকার ইয়াবা আনেন রোহিঙ্গা শফিউল্লাহ!

লঞ্চ ভাড়ার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতি বুঝে 

ক্যান্সার প্রতিরোধী রঙিন ফুলকপিতে লাভবান কৃষক