সকাল ০৬:০৮, শুক্রবার, ১৯ আগস্ট, ২০২২, ৪ ভাদ্র

যেখানে বিনামূল্যে মেলে বিয়ের পোশাক

বিনামূল্যে বিয়ের পোশাক
বিনামূল্যে বিয়ের পোশাক

ফুড ব্যাংক, বুক ব্যাংক কিংবা টয় ব্যাংক… এসবের সঙ্গে পরিচয় অনেকেরই। সমাজের অবস্থাসম্পন্ন দায়িত্ববান মানুষ সেখানে স্বেচ্ছায় খাবার, বই ও খেলনা জমা দেন। উল্টো দিকে কেনার সামর্থ্য নেই এমন ব্যক্তিরা সেখান থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী জিনিস সংগ্রহ করে থাকেন।

 

এই ধারণা থেকেই ভারতে চালু হয় ড্রেস ব্যাংক। তবে কেরালার এই ড্রেস ব্যাংকটি একটু ব্যতিক্রম। এখানে কেবল কনের বিয়ের পোশাক পাওয়া যায়। শাড়ি, স্কার্টসহ সব ধরনের পোশাকের সমাহার এখানে।

দক্ষিণ ভারতের কেরালার মালাপ্পুরান জেলার থুথা গ্রামের বাসিন্দা নাসার থুথা। ১০ বছর সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সুপার মার্কেটে কাজ করেছেন। ২০১৩ সালে দেশে ফিরে শুরু করেন ট্যাক্সি চালানো।

আল জাজিরাকে নাসার বলেন, ‘দেশে ফিরে গরিব ও গৃহহীনদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করি। তখন অনেক পরিবারের সঙ্গে কথা হয় যারা মেয়ের বিয়ে নিয়ে বেকায়দায় ছিলেন। বিষয়টির গুরুত্ব আমি বুঝতে পারি। সিদ্ধান্ত নিই তাদের সাহায্য করব।

‘বিয়ের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ পোশাক। সামর্থ্যহীনদের কাছে বিষয়টি গুরুত্ব না পেলেও, কনের কাছে এটি গৌরবের। সেই চিন্তা থেকেই শুরু।’

গত বছরের এপ্রিলে চালু করেন তার ড্রেস ব্যাংক। শুরুতে হোয়াটস অ্যাপ ও ফেসবুকে উদ্দেশ্য জানিয়ে সামর্থ্যবানদের আহ্বান জানান, তারা যেন অব্যবহৃত বিয়ের পোশাকগুলো জমা দেন। এক বছরের কিছু বেশি সময়ে ২৬০ জনের বেশি সুবিধাবঞ্চিত তার ব্যাংক থেকে নেয়া পোশাক পরে নিজেদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন।

নাসার বলেন, ‘২০২০ সালের এপ্রিলে আমার বাড়ির একটি কক্ষে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করি ড্রেস ব্যাংক। ফেসবুকে কনের পরিবার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে পোশাক নির্বাচন করেন। অনেকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে বেছে নেন পোশাক।

‘অনেক পরিবার আছে, যাদের আমার বাসা পর্যন্ত আসার পরিবহন খরচ নেই কিংবা তাদের পরিবারের কেউ অসুস্থ। আমরা স্বেচ্ছাসেবীর মাধ্যমে তাদের কাছে পোশাক পৌঁছে দিই। কখনও এসব পোশাক ফেরত চাই না; তবে উৎসাহিত করি তারাও যেন অন্যের প্রয়োজনে এই পোশাক নিয়ে এগিয়ে আসেন।’

অল্প দিনেই ব্যাপক সাড়া মেলে নাসারের উদ্যোগ। তার বাড়িতে এখন পোশাকের স্তূপ। এগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই নতুন। আর পাঠানো পোশাকের বেশির ভাগই আসে বেনামে।

নাসার বলেন, ‘বিয়ের পোশাক কয়েক ঘণ্টার জন্যই পরা হয়। তারপর তা আলমারিতেই পড়ে থাকে। বিষয়টা উপলব্ধি করছেন অনেকে। তারা আমার আহ্বানে সাড়া দিচ্ছেন।’

শুরুতে কেরালার বিভিন্ন জায়গা থেকে দাতব্য সংস্থা আর বন্ধুদের মাধ্যমে এসব পোশাক সংগ্রহ করেন নাসার। সময়ের সঙ্গে চাহিদা বাড়ছে।

নাসার বলেন, ‘কেরালা ছাড়িয়ে পাশের রাজ্য কর্ণাটক ও তালিম নাড়ু থেকে লোকজন পোশাক দান করছেন। সাহায্য আসছে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও।

নাসারের উদ্যোগ যে ব্যাপক সাড়ে ফেলেছে তার প্রমাণ, ৮০০-এর বেশি পোশাক এখন তার ব্যাংকে। পাঁচ হাজার থেকে শুরু করে ৫০ হাজার রুপির এসব পোশাকের মধ্যে আছে মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিষ্টান কনেদের পোশাক।

আল জাজিরাকে নাসার বলেন, ‘এই ড্রেস ব্যাংক চালাতে নিজের কোনো টাকা বিনিয়োগ করতে হয়নি। আমি কেবল মাধ্যম হিসেবে কাজ করছি।’

৩১ বছরের সাখিনা খানের (ছদ্মনাম) বিয়ে ২৭ ডিসেম্বর। গোলাপি একটি বেনারসি শাড়ি তিনি নিয়েছেন এই ড্রেস ব্যাংক থেকে। তিনি জানান, তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপহার এটি।

‘এই গ্রীষ্মে করোনায় আমার বাবা ও চাচা মারা যান। স্কুলে শিক্ষকতা করতাম, মহামারিতে সেটাও চলে যায়। বাধ্য হয়ে মা অন্যের বাড়িতে রান্নার কাজ করছেন। তার উপার্জনেই সংসার চলছে।

‘ বিয়ের কমিউনিটি সেন্টার ও খাবার বাবদ সাড়ে ৫ লাখ রুপি খরচ হয়ে গেছে। বিয়ের জন্য পোশাক কেনার টাকা হাতে ছিল না। তখন ফেসবুকে থুথার সঙ্গে যোগাযোগ হয়। ভিডিও কলে পোশাক পছন্দ করি। এক সপ্তাহের মধ্যে আমার বাড়িতে গোলাপি বেনারসি চলে আসে।’

কেবল নারীরা কেন… পুরুষদের জন্য উদ্যোগ নেই প্রশ্নের জবাবে নাসার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত পুরুষদের কাছ থেকে কোনো অনুরোধ আসেনি। কেবল নারীই করছেন। যদি পুরুষরা চান, তবে তাদের জন্যও ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।’

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাজার পর্যবেক্ষণ সংস্থা- আইবিআইএস-এর হিসাবে বিয়ের কেনাকাটায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খরচ হয় ভারতে; ৫০ বিলিয়ন ডলার। আর শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে ৭২ বিলিয়ন ডলার। সামর্থ্যবানেরা ধুমধামের সঙ্গে আয়োজন করলেও, বিয়ে নিয়ে ধুঁকতে হয় অনেককে।

আল জাজিরাকে ভারতের সেন্ট্রাল ফর সোশ্যাল রিসার্চ-এর পরিচালক রঞ্জনা কুমারি বলেন, ‘বিয়েতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয় একেকটি ভারতীয় পরিবারে। অনুষ্ঠানস্থল, খাবার, পোশাক, অলংকার, স্বজনদের জন্য উপহার লাগে একটি বিয়েতে। এসব করতে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে থাকেন অনেকে। সময়মতো এসব পরিশোধ না হলে, সামাজিক মর্যাদায় আঘাত আসে…ঘটে আত্মহত্যা।

তামিলনাড়ুর কাঞ্চিপুরম জেলায় ২০১৬ সালে সপরিবারে আত্মহত্যা করেছিলেন এক কৃষক। পরে জানা যায়, বড় মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাড়ে ব্যর্থ হয়ে এই পথ বেছে নিয়েছিলেন তিনি।

গত সপ্তাহেও এমন ঘটনা ঘটেছে কেরালার ত্রিশুর জেলায়। বোনের বিয়ের খরচ জোগাতে না পেরে আত্মহত্যা করেন ২৫ বছরের এক যুবক।

Share This Article


বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় জিয়াউর রহমান জড়িত না থাকলে ঘাতকরা সাহস পেত না : ওবায়দুল কাদের

গার্ডার দুর্ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে আপত্তি নেই চীনের

দুর্ঘটনার পর নাম আসা ১০ জন গ্রেফতার

ডলারে ‘অতিরিক্ত মুনাফা’র কারণে এবার ৬ ব্যাংকের এমডিকে শোকজ

কমতে শুরু করেছে ডিমের দাম

স্বস্তিতে ডলার

ফিলিস্তিনকে সামরিক সহযোগিতা দিতে আগ্রহী রাশিয়া

ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ে সেরা দশে মুস্তাফিজ

সিন্ডিকেটের কারণে বাড়ছে ডিমের দাম

সীমানা পরিবর্তন নিয়ে বিতর্কে জড়াবে না ইসি

ফিটনেসবিহীন ক্রেনটি চালাচ্ছিল চালকের সহকারী: র‍্যাব

এবার শিরোপা জিতবে বার্সেলোনা: লেওয়ানডস্কি

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ অর্থ বিলে স্বাক্ষর বাইডেনের

শিগগিরই ঢাকা-নিউইয়র্ক রুটে চলবে বিমানের ফ্লাইট

হঠাৎ অসুস্থ খালেদা জিয়া