গ্রাহকদের সুবিধার্থে ৪ লাখ ২০ হাজার প্রি-পেইড গ্যাস মিটার কিনছে সরকার

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ দুপুর ০২:১১, শনিবার, ২৫ মার্চ, ২০২৩, ১১ চৈত্র ১৪২৯

রাজধানীর ৪১টি থানায়  ৪ লাখ ২০ হাজার প্রিপেইড মিটার গ্যাস স্থাপন করবে সরকার। এতে করে গ্যাস অপচয় রোধ, সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও টেকসই গ্যাস ব্যবহার নিশ্চিত এবং গ্যাসের সিস্টেম লস কমিয়ে ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

সম্প্রতি সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকে ‘প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপন (৩য় সংশোধিত)’ প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ তৈল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)-এর আওতাধীন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (টিজিটিডিসিএল)। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে ৯৭ কোটি ৪৭ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। প্রকল্প ঋণ বাবদ জাইকার কাছ থেকে পাওয়া যাবে ৮০৭ কোটি ২৯ হাজার টাকা। এছাড়া সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ২৩ কোটি ৭৫ লাখ ৫৯ হাজার টাকা।

প্রকল্পের আওতায় মোট ৪ লাখ ২০ হাজার আবাসিক গ্রাহককে প্রিপেমেন্ট সিস্টেমের আওতায় আনার লক্ষ্যে টার্ন-কি পদ্ধতিতে প্রি-পেইড গ্যাস মিটার কেনা হবে এবং সেগুলো স্থাপন করা হবে। ওয়েব সিস্টেম (হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার) স্থাপন করা হবে এবং গ্রাহক আঙিনায় মিটার স্থাপন ও কমিশনিংসহ অন্যান্য কাজ করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, সরকারের ৮ম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় গ্যাস খাতের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ক্রমহ্রাসমান গ্যাস সম্পদ রক্ষার্থে, জ্বালানি কর্মদক্ষতা এবং সংরক্ষণ উন্নয়নের মাধ্যমে গ্যাসের চাহিদাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা। এক্ষেত্রে আলোচ্য প্রকল্পটির মাধ্যমে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় ৪ লাখ ২০ হাজার প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপন করা হলে গ্যাস ব্যবহারকারী গৃহস্থালি ভোক্তা কর্তৃক বর্তমান নির্দিষ্ট দামের পরিবর্তে গ্যাসের প্রকৃত ব্যবহারের সঙ্গে সমন্বিত দামে গ্যাস ক্রয় করার মাধ্যমে গ্যাসের সিস্টেমলস হ্রাস করাসহ ব্যয় সাশ্রয়ী করা এবং গ্যাসের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, ইতিপূর্বে যেসব এলাকায় প্রিপেইড গ্যাস মিটার স্থাপন করা হয়েছে তারা বলছেন, প্রিপেইড গ্যাস মিটার বসানোর পর থেকে তাদের গ্যাসের জন্য খরচ ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে গেছে। এ ক্ষেত্রে শুধু গ্রাহকের সুবিধা হবে, তা নয়। বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবহারের কারণে দেশের গ্যাস সঞ্চয় কমছে। এ অবস্থায় গ্যাসের ব্যবহার ও অপচয় কম হলে ভবিষ্যতে বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানি করার প্রক্রিয়াও বিলম্বিত করা যাবে।

Share This Article