অন্য রুটেও নগর পরিবহন চালুর দাবি

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সকাল ০৯:৫৬, বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২১, ১৫ পৌষ ১৪২৮
নগর পরিবহন
নগর পরিবহন

নিজস্ব প্রতিবেদক:ঘাটারচরে সড়কের পাশে সারি সারি ৬টি সবুজ রংয়ের বাস। যাত্রী ছাউনির সামনে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন যাত্রী। সেখানে একজন চেয়ার-টেবিল ও পস মেশিন (আর্থিক লেনদেন গণনার জন্য ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক মেশিন) নিয়ে বসে আছেন। নেই কোনো ডাক-চিৎকার কিংবা তাড়াহুড়া। 

যাত্রীরা টাকা দিলেই পস মেশিন থেকে বের হয়ে আসছে ই-টিকিট। বাসের গেটে দাঁড়িয়ে আছেন কন্ডাক্টর। যাত্রীরা ই-টিকিট দেখিয়ে এক এক করে প্রবেশ করছেন। সিট সংখ্যা পূর্ণ না হতেই গেট বন্ধ হয়ে যায়।

মোহাম্মদপুরের স্টেশনে থামানো হলে কয়েকজন যাত্রী নেমে যান। এরপর টিকিট নিয়ে উঠেন আরও ১০/১২ জন যাত্রী। দাঁড়িয়ে নেয়া হয়নি কোনো যাত্রী। অনেকেই কাউন্টারের আগে কিংবা পড়ে নামতে চাইলেও চালক কাউন্টার ছাড়া কোথাও থামাননি।
 

ঘাটারচর থেকে নগর পরিবহনে ওঠা কালাম হোসেন নামের একযাত্রী বলেন, এটি একটি সময়োপযোগী ভালো উদ্যোগ। এমন পরিবহন আরও আগে চালু হওয়ার দরকার ছিল। নগর পরিবহন চালু হওয়ায় এখন ভোগান্তি কমেছে। নির্দিষ্ট পরিমাণ ভাড়া দিলেই ই-টিকিট পাচ্ছি। বাড়তি ভাড়া নেয়ার কোনো সুযোগ নেই। লাইনে দাঁড়িয়ে সবাইকে নিয়ম মেনে বাসে উঠতে হয়। ঠেলাঠেলি নেই। ৫ মিনিট পর পর বাস ছাড়ছে। বাসের মধ্যে কাউকে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে না। পুরো ঢাকা শহরে এভাবে বাস চলাচল করলে যাত্রী হয়রানি থাকবে না। কমে আসবে যানজট।

সায়েন্স ল্যাব থেকে কাঁচপুরের উদ্দেশ্যে নগর পরিবহনে উঠেছেন সাদেক মিয়া নামের এক ব্যবসায়ী। মানবজমিনকে তিনি বলেন, সকালে কাঁচপুর থেকে সায়েন্স ল্যাব পর্যন্ত নগর পরিবহনে এসেছি। চালক সুশৃঙ্খলভাবে বাস চালিয়েছে। রাস্তায় বাসের কোনো প্রতিযোগিতা ছিল না। অতিরিক্ত যাত্রীও উঠতে পারেনি। সবাই বাসে ওঠার আগেই টিকিট কেটেছে। কাউন্টার ছাড়া রাস্তায় বাস থামে না। এই উদ্যোগটি আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে। কাজ শেষে আবার নগর পরিবহনে উঠে কাঁচপুরে যাচ্ছি। এ পরিবহনটি নিয়মিত চালু থাকলে নগরবাসী স্বস্তি পাবে। রাজধানীর প্রতিটি এলাকায় এভাবে বাস চললে সড়কে বিশৃঙ্খলা থাকবে না।

সুমাইয়া ইয়াসমিন নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, নগর পরিবহনের কাউন্টার ছাড়া যাত্রী ওঠানো হয় না। বাসে উঠতে ঠেলাঠেলি করতে হয় না। দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। সম্পূর্ণ নারীবান্ধব একটি পরিবহন। শিক্ষার্থী হিসেবে হাফ ভাড়া দিয়ে বাসে উঠেছি। ঘাটারচর-কাঁচপুর রুটে নগর পরিবহন সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো নগরীতে চালুর দাবি জানাচ্ছি।

এরশাদ মিয়া এক চালক মানবজমিনকে বলেন, পুরাতন রুটে নতুন সিস্টেমে বাস চালাচ্ছি। নতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে। নগর পরিবহনের এই বাস চালিয়ে আমরা খুশি। এক রঙের বাস ও একই রঙের পোশাক পরছি সবাই। বাসে কোনো ভাড়া নেয়া হয় না। কাউন্টারেই সব। যাত্রীদের সঙ্গে আমাদের কোনো বাকবিতণ্ডা নেই। যাত্রী নিয়ে চিন্তা নেই। অন্য বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে না। আগে যাত্রীদের সঙ্গে প্রায়ই ভাড়া নিয়ে বাকবিতণ্ডা হতো। অনেক সময় তারা গায়ে হাত তুলতো। এখন আর এসব হয় না। 

এ ছাড়া আগে ব্যক্তি মালিকানা গাড়ি চালিয়ে মালিকদের নির্ধারিত টাকা নিয়ে আমাদেরকে চিন্তা করতে হতো। মালিকদের টার্গেট পূরণ করতে আমাদেরকে অতিরিক্ত যাত্রী ও বাড়তি ভাড়া নিতে হতো। অনেক সময় নানা চিন্তা নিয়ে বাস চালাতাম। ফলে রাস্তায় অন্য বাসের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি করতাম। এখন আমাদেরকে নিরাপদ মনে হচ্ছে। নগর পরিবহন বাসে আমার চাকরিটাকেও নিরাপদ মনে করছি। আরেক বাসের চালক আলমগীর বলেন, আগে বুঝতে পারিনি এত সুন্দর একটা শৃঙ্খলার মধ্যেও বাস চালানো যায়। গত ২ দিন নগর পরিবহন চালিয়ে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি। ঢাকা শহরের প্রতিটি সড়কে একটি কোম্পানির মাধ্যমে বাস চলাচল করলে যানজট থাকবে না। যাত্রীরা নিরাপদে দ্রুত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে। দুর্ঘটনার সংখ্যাও কমবে। যাত্রী ভোগান্তি থাকবে না।

রাশেদুল ইসলাম নামের এক বাস সহকারী বলেন, নগর পরিবহনে যাত্রীদের কাছ থেকে আমাকে কোনো ভাড়া আদায় করতে হয় না। যাত্রীদের কথা শুনতে হচ্ছে না। কাউন্টার ছাড়া কোথাও বাস থামে না। কাউন্টারে মেশিনের মাধ্যমে টিকিট কেটে সবাই বাসে উঠে। কোনো তাড়াহুড়ো নেই। যে যার ইচ্ছামতো সিটে বসতে পারে। 

এ ছাড়া নগর পরিবহন কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে এই রুটে বাস চালানোর জন্য প্রশিক্ষণ দিয়েছে। সব মিলিয়ে এখন ভালোই আছি। নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত বাসচালক ও কাউন্টারম্যানদের গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা ও দুর্ঘটনা রোধে করণীয়, ট্রাফিক সাইন, সিগন্যাল ও মার্কিং পরিচিতি এবং সড়ক পরিবহন সংক্রান্ত আইন, নীতিমালা ও বিধিবিধান সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। নগর পরিবহন চালুর পর নিয়মিতভাবে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি তদারকি করছেন। এদিকে গত রোববার ঘাটারচর থেকে কাঁচপুর ব্রিজ পর্যন্ত বিআরটিসি’র ৩০টি ডাবল ডেকারসহ মোট ৫০টি বাস দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে নগর পরিবহন চলাচল শুরু হয়েছে। 

প্রথমদিন থেকেই ই-টিকেটিং সিস্টেমে চলছে এসব পরিবহন। যাত্রীরা কাউন্টারে থাকা বিক্রয় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে টিকিট কিনেছেন। সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ৫ থেকে ১০ মিনিট পর পর চলাচল করেছে এসব বাস। বর্তমানে বিআরটিসি’র ৩০টি ডাবল ডেকার ও ট্রান্স সিলভা পরিবহনের ২০টি বাস এ রুটে চলাচল করলেও আগামী দুই মাসের মধ্যে আরও ৫০টি বাস যুক্ত হয়ে পুরোদমে এই কার্যক্রম চালু হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Share This Article

যাঁরা ‘আমি রাজাকার’ বলেন, তাঁদের শেষ দেখে ছাড়বে ছাত্রলীগ

এ যুগের রাজাকারদের পরিণতি ওই যুগের রাজাকারদের মতই হবে : শিক্ষামন্ত্রী

কোটা আন্দোলনকারীদের হটাতে অ্যাকশনে পুলিশ

কোটা পুনর্বহাল করে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

শিক্ষার্থীরা বঙ্গবন্ধুকন্যাকে কটূক্তি করেনি, কেউ শিখিয়ে দিয়েছে

আর্জেন্টিনার ইতিহাস গড়া জয়, কোপার শিরোপা মেসিদের

ঢাবি হলের কক্ষে কক্ষে কোটাব্যবস্থা নিয়ে প্রচারপত্র দিলেন ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা

প্রাণহানির প্রতিটি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে : প্রধানমন্ত্রী

পারলে সশরীরের ঢাকায় যেতাম, আন্দোলন নিয়ে কবীর সুমন

‘পত্রপত্রিকা কী লিখল সেটা দেখে নার্ভাস হওয়ার কিছু নেই’


যুব সমাজকে মাছ উৎপাদনে নজর দিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

সরকার শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে এগোতে চায় : তথ্য প্রতিমন্ত্রী

২৫ জুলাই পর্যন্ত এইচএসসির সব পরীক্ষা স্থগিত

আইনমন্ত্রীর প্রস্তাব নিয়ে আন্দোলনকারীরা আলোচনায় বসেছেন

জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাস ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা

মিরপুর ১০ নম্বরে সংঘর্ষ, পুলিশ বক্সে আগুন

নিজ দেশের নাগরিকদের ঘরে থাকার আহ্বান ভারতীয় হাইকমিশনের

শিক্ষার্থীদের পরিবর্তে আজ মাঠে নেমেছে বিএনপি-জামায়াত: কাদের

আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন দুই মন্ত্রী

প্রাণহানির প্রতিটি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে : প্রধানমন্ত্রী

পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর ঢাবি ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা

শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আহ্বান পুলিশ সদর দপ্তরের