গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি : তিন খাতেই সংকট কাটছে !

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সকাল ০৯:৪১, রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২২, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি খাতে কঠিন এক সময় পার করছে পুরো বিশ্ব। উচ্চ মূল্যের তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ কিনতে দিশাহারা অবস্থায় পড়েছে বিশ্বের বাঘা বাঘা দেশগুলোও। এই চ্যালেঞ্জের মধ্যে যেতে হচ্ছে বাংলাদেশকেও। তবে নতুন বছরে এ সংকট কেটে যাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। রয়েছে এর যুতসই যুক্তিও।

 

গ্যাসের সংকট কাটাতে যত প্রদক্ষেপ :

দেশে বর্তমানে মোট চাহিদার তুলনায় ৮০০ থেকে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সংকট রয়েছে। ফলে বাধ্য হয়েই চাহিদা মেটাতে উচ্চ মূল্যে আমদানি করতে হচ্ছে এলএনজি। কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও অবহেলিত অবস্থায়ই ছিল দেশীয় কূপগুলো। তাই গ্যাসের সংকট কাটাতে প্রথমেই দেশের অভ্যন্তরের কূপগুলো নতুন করে খননের পাশাপাশি নতুন নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

বাপেক্স ও পেট্রোবাংলার সূত্রমতে, চলতি বছরের শেষ ৪ মাসসহ আগামী ৩ বছরে দেশজুড়ে অন্তত ৪৬টি কূপে অনুসন্ধান, উন্নয়ন এবং ওয়ার্কওভার খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৫টি কুপে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি গ্যাসের উপস্থিতি মিলেছে। এসব গ্যাস এলএনজি করে জাতীয় গ্রিডে আনার প্রক্রিয়া চলছে। যদি এসব উৎস থেকে গ্যাস ঠিকঠাকভাবে পাওয়া যায় তা হলে সাম্প্রতিক সংকট অনেকটাই কেটে যাবে। এমনকি তরলকৃত গ্যাস আর আমাদানিও করতে হবে না, উল্টো রপ্তানি করা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

বিদ্যুতের সংকট মোকাবিলায় প্রদক্ষেপ :

বিশ্বব্যাপী মূল্যবৃদ্ধিজনিত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ প্রথম ধাক্কাটা খায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে। উচ্চ মূল্যে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা বন্ধ করে দেওয়ায় তেলভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্রগুলোরও উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে চাহিদার তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ উৎপাদনের কারণে সারাদেশ পড়ে লোডশেডিংয়ের কবলে। যদিও এই সংকট এখন অনেকটাই কেটে গেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নতুন বছরে পায়রা, রামপাল, আদানিসহ দেশের অভ্যন্তরের বেশ কয়েকটি বিদ্যুতকেন্দ্র নতুন উৎপাদন শুরু করবে। ফলে আসন্ন গ্রীষ্মে থাকবে না এ রকম সংকট।

ইতোমধ্যে রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু করেছে। গত মাসে এই কেন্দ্রে দৈনিক গড়ে ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে, যা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

অন্যদিকে, রামপাল বিদ্যুতকেন্দ্র থেকে দৈনিক অন্তত ৭০০ থেকে ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, যা চলতি বছরের শুরুতে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। একই সাথে ভারতের আদানি ও ঝাড়খন্ড রাজ্যের দুটি কেন্দ্র থেকে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাবে বাংলাদেশ। বিদ্যুতের এই বাড়তি উৎপাদন এবং সরবরাহের কারণে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্রগুলোর ওপর চাপ কমবে। বরং এই গ্যাস শিল্প কারখানাগুলোতে সরবরাহ করে চলমান সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জ্বালানির সংকট কাটাতে প্রদক্ষেপ :

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে চড়া দামে পরিশোধিত-অপরিশোধি তেল কিনতে হচ্ছে বিশ্ববাসীকে। এমন অবস্থায় দেশের তেলের বাজারে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিবে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপ লাইন চুক্তি।

বিপিসি সূত্রমতে, এই পাইপ লাইন দিয়ে ভারত থেকে সরাসরি পরিশোধিত তেল (ডিজেল) চলতি মাসেই আসবে দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে। এতে করে পূরণ হবে উত্তরবঙ্গের ১৬ জেলার মানুষের তেলের চাহিদা।

পাইপলাইনে প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ আড়াই লাখ টনের মতো ডিজেল আমদানি করবে। পরের বছরগুলোতে তা ৪ থেকে ৫ লাখ টন পর্যন্ত বাড়বে। চুক্তির অধীনে সরবরাহ শুরু হওয়ার দিন থেকে ১৫ বছরের জন্য ভারত থেকে ডিজেল কিনবে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে জ্বালানির চাহিদা মেটাতে শুধু ভারত নয়, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, চীন থেকে তেল আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও জ্বালানি আমদানির সিদ্ধান্ত হচ্ছে। এর ফলে অচিরেই জ্বালানির সংকট কাটবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিষয়ঃ বাংলাদেশ

Share This Article