ইউরোপকে পাশ কাটিয়ে দেশের গার্মেন্টস খাতের চমক

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সন্ধ্যা ০৬:৩১, বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২২, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

ইউরোপ-আমেরিকাকে পাশ কাটিয়ে ভারত, চীন, জাপান এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো অপ্রচলিত মার্কেটে তৈরি পোশাক রফতানি করে চমক সৃষ্টি করছেন বাংলাদেশের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে নতুন ১৫টি দেশে ২৪৫ কোটি মার্কিন ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে। এদিকে পেমেন্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা দ্রুত নিরসন করা গেলে এসব দেশে রফতানি আরও বাড়বে আশা করছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।


 

আমেরিকা ও কানাডার পাশাপাশি ইউরোপের অন্তত ২৫টি দেশে তৈরি পোশাক রফতানি করেন বাংলাদেশের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নতুন আরও ১৫টি অপ্রচলিত দেশ। এর মধ্যে যেমন ভারত, চীন, জাপান রয়েছে, তেমনি রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আর ধারণা করা হচ্ছে, এ অপ্রচলিত দেশগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে দেবে।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে অপ্রচলিত বাজারে হিসেবে পরিচিত ১৫টি দেশে ২৪৫ কোটি ডলারের গার্মেন্টস পণ্য রফতানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের এ সময়ের তুলনায় ৫০ কোটি ডলার বেশি। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বমন্দার সংকট কাটাতে বিকল্প বাজারের সন্ধানে রয়েছেন দেশের গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা।

বিজিএমইএর সাবেক প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ভবিষ্যতে বিকল্প বাজারে যাওয়ার জন্য আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গাটি হচ্ছে আমাদের ফরেন মিশনগুলোকে প্রো-অ্যাকটিভ হতে হবে। দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে যদি ডিউটি একটি সহনীয় পর্যায়ে আনা যায়, বা ডিউটি ফ্রি করা যায়, তাহলে রাশিয়ার বাজারও আমাদের ভালো সুযোগ দেবে।

বিজিএমইএ সূত্র বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে জাপানে ৪৫৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার গার্মেন্টস পণ্য রফতানি হয়েছে। ৩৯৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হয়েছে ভারতে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়াতে ২৯৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য, দক্ষিণ কোরিয়াতে ১৬৪ মিলিয়ন ডলারের, মেক্সিকোতে ১১৬ মিলিয়ন ডলারের, রাশিয়ায় ৯০ মিলিয়ন ডলারের, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৮৭ মিলিয়ন ডলারের, চীন ও তুরস্কে ৬৯ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে বাংলাদেশ।

বিজিএমইএ সহসভাপতি রাকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, রাশিয়া, জাপান ও ভারত হচ্ছে আমাদের নতুন বাজার। আর নতুন বাজারের ধরনও কিন্তু নতুন। এ ছাড়া ফেব্রিকেশনও নতুন। ফেব্রিকের আবার বিভিন্ন ধরন থাকে। যেমন-পলিস্টার ফেব্রিক। আমরা যখন এটি কাঁচামাল হিসেবে আমদানি করতে যাই, তখন এটি মাঝেমধ্যে টেস্টের ব্যাপার থাকে।  

এদিকে অপ্রচলিত দেশগুলো থেকে রফতানি আয় আনার ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে চার শতাংশ হারে বাড়তি পরিশোধ করা হয়। তবে পেমেন্ট সংক্রান্ত জটিলতা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে দ্রুত নিরসনের দাবি বিজিএমইএর। সংগঠনটির প্রথম সহসভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা যখন বিদেশ থেকে কোনো পণ্য আমদানি করি, সে সময়ে যদি আমাদের পেমেন্ট দিতে একটু দেরি হয়, তখন তারা আমাদের ওপর চাপ প্রয়োগ পেমেন্ট নিয়ে যান। কিন্তু আমরা যখন রফতানি করি এবং সে সময়ে যদি আমাদের পেমেন্ট আসতে দেরি হয়, তখন কিন্তু আমরা দেশ থেকে সে সুযোগ পাই না। তাই আমাদের সরকারের কাছে অনুরোধ যেন তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এটি একটি সুবিধাজনক পন্থায় নিয়ে যায়।

এদিকে ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হিসাবে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে অক্টোবরে বিভিন্ন দেশে ১৩ হাজার ৯৫২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের গার্মেন্টস পণ্য রফতানি হয়েছে, যা গত বছর ছিল ১২ হাজার ৬২১ মিলিয়ন ডলার। 

Share This Article