রিজার্ভ সেনা তলব পুতিনের

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সকাল ০৯:১৮, বৃহস্পতিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৭ আশ্বিন ১৪২৯

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্পুলাদিমির পুতিন গতকাল বুধবার এক টেলিভিশন ভাষণে রিজার্ভ সেনা সমাবেশের আহ্বান জানিয়েছেন। এমন নির্দেশের পরপরই সামরিক বাহিনীতে কাজ করেছেন এমন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রিজার্ভ বাহিনীর প্রায় তিন লাখ সেনাসদস্যকে ডাকার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। 

 

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম রুশ প্রেসিডেন্ট এমন রিজার্ভ সেনা তলব করলেন। পর্যবেক্ষক মহল ধারণা করছেন, এর মধ্য দিয়ে ইউক্রেনে যুদ্ধের তেজ আরও বাড়বে এবং মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হবে। পুতিনের এই সেনা সমাবেশের সিদ্ধান্তকে নিন্দা জানিয়েছে পশ্চিমা দেশের নেতৃবৃন্দ। খবর বিবিসি।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগো বলেছেন, পুতিনের নির্দেশের পর বুধবারই সামরিক বাহিনীতে কাজ করেছেন এমন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন রিজার্ভ বাহিনীর প্রায় ৩ লাখ সদস্যকে ডাকার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসব সেনা ইউক্রেনে অবস্থানরত রুশ সেনাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে বলেও জানান শোইগো।

বুধবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে পুতিন বলেন, পশ্চিমারা শুধু রাশিয়াকেই ধ্বংস করতে চেয়েছে, এটিই তাদের লক্ষ্য। তারা ইউক্রেনের জনগণকে কামানের ‘খাদ্যে’ পরিণত করার চেষ্টা করছে। পুতিন বলেছেন, দনবাস (ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল) স্বাধীন করাই আমাদের লক্ষ্য। পুতিন আরও বলেছেন, পশ্চিমারা যদি ‘পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইল’ অব্যাহত রাখে, তা হলে রাশিয়া তার বিপুল অস্ত্রভাণ্ডারের সব শক্তি প্রদর্শন করবে। পুতিনের ভাষায় এটি ‘ঠাট্টা’ নয়।

পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়াকে ‘ধ্বংসের ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ এনেছেন। তিনি রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের বিরাট অঞ্চলে মস্কো অনুগত নেতাদের ডাকা গণভোটের প্রতি তার সুস্পষ্ট সমর্থন ঘোষণা করেছেন।

লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, খেরসন ও জাপোরিজিয়াকে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত করতে এই গণভোট ডাকা হয়েছে। গণভোটের রায় পক্ষে গেলে মস্কো প্রায় হাঙ্গেরির সমান আয়তনের মতো ভূখণ্ড আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের ভূখণ্ডভুক্ত করার সুযোগ পাবে। ভাষণে পুতিন বলেছেন, তিনি রিজার্ভ বাহিনীর আংশিক সমাবেশ করার নির্দেশ দিয়ে একটি ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেছেন আর তা বুধবার থেকেই কার্যকর হবে। এই নির্দেশ কেবল তাদের ক্ষেত্রেই কার্যকর হবে, যাদের রাশিয়ায় পেশাদার সেনা হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে, অন্যদের জন্য নয়।

রুশ সেনাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ইউক্রেনের চার অঞ্চলের মস্কোপন্থি কর্মকর্তাদের গণভোট ডাকা প্রসঙ্গে পুতিন বলেছেন, ওই অঞ্চলের লোকদের ‘জল্লাদদের’ হাতে তুলে দৈওয়ার নৈতিক অধিকার মস্কোর নেই।

পুতিন তার বক্তৃতায় বলেন, আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চল মুক্ত করা। একই সঙ্গে তিনি এটাও বলেন যে, ওই এলাকার বাসিন্দারা ‘নয়া নাৎসিদের’ খপ্পরে পড়তে চায় না। পুতিনের দাবি, ‘মুক্তাঞ্চলের’ বাসিন্দাদের সুরক্ষায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি ছিল, এ কারণেই রিজার্ভ বাহিনীকে তলব করা হয়েছে। যাদেরই ডাকা হবে, তারই সশস্ত্র বাহিনীর সব মর্যাদাই পাবেন বলেও জানান তিনি।

পুতিনের সর্বশেষ এই সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস। একই সঙ্গে তিনি এটাও বলেন যে, এ ধরনের লজ্জাজনক গণভোট মেনে নেবে না ইউক্রেনের জনগণ। এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন না যে, পুতিন পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেবেন। গতকাল তিনি বলেন, আমি এটা বিশ্বাস করি না যে পুতিন এটি করবেন এবং বিশ্ব তা মেনে নেবে। এ ছাড়া পুতিনের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ইউরোপের অন্যান্য দেশের নেতৃবৃন্দ।

Share This Article