‘অস্বস্তিবোধ’ সত্ত্বেও টানা দুই ঘন্টা শো করেছিলেন কেকে

কোটি ভক্ত অনুরাগীদের কাঁদিয়ে চলে গেলেন বলিউডের জনপ্রিয় শিল্পীদের অন্যতম কৃষ্ণকুমার কুন্নাথ ওরফে কেকে। মঙ্গলবার সুরের মঞ্চ থেকেই চিরবিদায় নিলেন এই শিল্পী।
কলকাতায় দুটি কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সোমবার দল সহ মুম্বাই থেকে আসেন তিনি। সে কথা নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও জানিয়ে ছিলেন! মঙ্গলবার রাতের সেই অনুষ্ঠানই যেন কাল হল! মাত্র ৫৪ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন বলিউডের তারকা এই গায়ক।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে নজরুল মঞ্চে প্রবেশ করেন কেকে। এদিন তার গান শুনতে রীতিমত জনজোয়ার তৈরী হয়। উৎফুল্ল মেজাজে পারফর্মও শুরু করেন কেকে।
তবে কিছুক্ষণ গাওয়ার পর নাকি অস্বস্তিবোধ করছিলেন শিল্পী। উপস্থিত দর্শকের বরাতে এমনটাই জানাচ্ছে কলকাতার সংবাদ মাধ্যমগুলো। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বলা হচ্ছে, অনুষ্ঠান চলাকালীন হঠাৎ অস্বস্তিবোধ করছিলেন কেকে। স্পটলাইট বন্ধ করতে বলছিলেন, ঘেমে যাচ্ছিলেন। তবে থামেনি তার সুর। টানা দুই ঘণ্টায় দর্শক মাতিয়ে প্রায় পৌনে ৯টার দিতে শো শেষ করে বেরিয়ে যান তিনি।
হিন্দুস্তান টাইমসের একটি প্রতিবেদনে জানা যায়, কনসার্ট থেকে বেরিয়ে কেকে সোজা পৌঁছান গ্র্যান্ড হোটেলে। সেখানে মারাত্মক অসুস্থবোধ করেন, এরপর তাকে কলকাতার সিএমআরআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে গায়ককে মৃত বলে ঘোষণা করেন ইমার্জেন্সি বিভাগের চিকিৎসকরা।
নতুন শতাব্দীতে বলিউডকে অসংখ্য মন মাতানো গান উপহার দিয়েছেন কেকে। কিশোর কুমারের অন্ধ ভক্ত ছিলেন তিনি। হিন্দি ছাড়াও বাংলা, তামিল, তেলুগু, মালায়ালাম, গুজরাটি-সহ একাধিক ভারতীয় ভাষায় গান গেয়েছেন তিনি। ভারতীয় পপ ও রক মিউজিকে আলাদা করে নিজের পরিচয় তৈরি করেছিলেন কেকে।
‘আঁখো মে তেরি’, ‘যারা সা’, ‘খুদা জানে’, ‘তুহি মেরি শব হ্যায়’,’দিল ইবাদত’, ‘ক্যায়া মুছে প্যায়ার হ্যায়’-সহ অজস্র হিট গান দর্শকদের উপহার দিয়েছেন কেকে। ‘বাঁচনা ইয়ে হাসিনো’ ছবির ‘খুদা জানে’ গানের জন্য ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান কেকে।