নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি থেকে মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুরের যানজট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

  বাংলাদেশের কথা ডেস্ক
  প্রকাশিতঃ সকাল ১০:৫৫, শুক্রবার, ১৩ মে, ২০২২, ৩০ বৈশাখ ১৪২৯

ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি হয়ে মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার। তবে এ সড়ক পার হতেই ৩ থেকে ৫ ঘন্টা লেগে যায়। সড়কটি সরু হওয়ায় এখান দিয়ে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী গাড়ি স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে না। এ দুর্ভোগ চলে আসছে যুগের পর যুগ ধরে।

ঢাকা থেকে সড়ক পথে মুন্সিগঞ্জ যেতে এই রাস্তাটিই প্রথম চালু হয়। ওই সময়ে পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত তেমন ঘনবসতি ছিলো না। দূরদর্শিতার পরিচয় না দিয়ে তিন জেলার এই সংযোগ সড়কটি খুব সরু করে নির্মাণ করা হয়।

এ সড়ক হওয়ার পর আশপাশের এলাকায় দ্রæত ঘরবসতি বাড়তে শুরু করে। এ সড়কের পাশে শাসনগাঁয়ে গড়ে ওঠে বিসিক শিল্প নগরী। যেখানে কয়েক শ’ গার্মেন্ট-নিটিং কারখানা আছে। সৈয়দপুর থেকে মুক্তারপুর পর্যন্ত রয়েছে কয়েকটি সিমেন্ট কারখানা। এছাড়া সড়কের দু’ধারে বিভিন্ন এলাকায় গার্মেন্টসহ বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব কারণে মানুষ যেমন বেড়েছে তেমনি বেড়েছে যানবাহনও।

বিশেষ করে এ সড়কে ব্যাটারিচালিত ইজি বাইকের দৌরাত্ম্য বেশি। এছাড়া রয়েছে রিকশা, ভ্যান গাড়ি, প্রাইভেট কার, মোটর সাইকেল। সরু সড়কে এত যানবাহন থাকলেও লেন একটাই। যার জন্য যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী গাড়িগুলোকে পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর যেতে অসংখ্যবার ব্রেক কষতে হয়। এ কারণে এ পথে যেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এতে করে মানুষের যেমন কর্মঘণ্টার অপচয় হয় তেমনি পণ্য আনা নেয়ার ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সময় লাগে ও ব্যয় বাড়ে।

তাই সরকার এই সড়কে যানজট নিরসনে আর মুন্সীগঞ্জের সাথে ঢাকা এবং নারায়ণগঞ্জের সুষ্ঠু সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মুক্তারপুর হতে পঞ্চবটি পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (উড়াল সড়ক) নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় ১০ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কে প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯ দশমিক ০৬ কিলোমিটার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং রাস্তা প্রশস্তকরণের একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সেতু কর্তৃপক্ষের ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারছে না।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ১০ দশমিক ৩৭ কিলোমিটার দীর্ঘ মুক্তারপুর-পঞ্চবটি সড়কে প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় ৭ কিলোমিটার অ্যাটগ্রেড সড়ক দুই লেন এবং ৩ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার অ্যাটগ্রেড সড়ক ৪ লেনে উন্নীত করা হবে। পঞ্চবটি থেকে শীতলক্ষ্যা-৩ সেতু পর্যন্ত দুই লেন সড়কের উপর ২ দশমিক ৮০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ৬টি র‌্যামসহ দুই লেন বিশিষ্ট ৯ দশমিক ০৬ কিলোমিটার হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে। এছাড়া যানজট নিরসনে পঞ্চবটি মোড় থেকে ফতুল্লার দিকে ও নারায়ণগঞ্জের চাষাড়ার দিকে তিনশত মিটার করে ৬ লেন সড়ক নির্মাণ করা হবে। চর সৈয়দপুরে শীতলক্ষ্যা-৩ সেতু পয়েন্টে একটি গোলচত্বর থাকবে। এখান থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীত করা হবে। প্রকল্পটির পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ১২শ’ ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে চীনা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান স্যানডল ওসিএসআই ৩ বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করবে। ইতোমধ্যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ জেলার ৩৭ দশমিক ১১ একর ভ‚মি অধিগ্রহণের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলায় ৩৪ দশমিক ১৪ একর, মুন্সীগঞ্জ জেলায় ২ দশমিক ৯৭ একর। মুন্সীগঞ্জ অংশে জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সহসাই জমির মালিককে ৭ ধারায় নোটিশ প্রদান করা হবে। নারায়ণগঞ্জের অংশে যৌথ সার্ভের কাজ সমাপ্ত হয়েছে। জমি অধিগ্রহণের কাজ সমাপ্ত হলেই মূল সেতুর নির্মাণ কাজ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শুরু করবে। পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়কে ২ দশমিক ৮০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ৬টি র‌্যামসহ দুই লেন বিশিষ্ট ৯ দশমিক ০৬ কিলোমিটার হচ্ছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং বিদ্যমান সড়ক প্রশস্তকরণে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ২ হাজার ৫ কোটি এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ২ শত ২২ কোটি টাকা ব্যয় করবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে মুন্সীগঞ্জ জেলার সাথে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং মুন্সীগঞ্জবাসীর যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘব হবে। চর সৈয়দপুরে শীতলক্ষ্যা-৩ সেতু পয়েন্টের গোলচত্বর থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত সড়কটি চার লেনে উন্নীত হলে দক্ষিণাঞ্চলের যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ না করে শীতলক্ষ্যা-৩ সেতু দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে চলাচল করতে পারবে। মুক্তারপুরে ৫টি সিমেন্ট কারখানাসহ ৬টি হিমাগার থাকায় মুক্তারপুর-পঞ্চবটি সড়কে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। সড়কটি প্রশস্ত না থাকায় মুন্সীগঞ্জের যাত্রীরা মুক্তারপুর থেকে সিএনজি অটোরিকশায় নারায়ণগঞ্জের তামাকপট্টি দিয়ে নারায়ণগঞ্জে যাতায়াত করে। সরু এ রাস্তায় দুটি যানবাহন পাশাপাশি যাতায়াত করতে পারে না। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে মুন্সীগঞ্জবাসী সহজে দ্রæততম সময়ে নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকায় যেতে পারবে। এত সময় ও খরচ বাঁচবে।

প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ড্রেন নির্মাণ, ৬টি ওজন ষ্টেশন, চারটি টোল প্লাজা, ফুট ওভার ব্রিজ নির্মাণ। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে প্রস্তাবিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সময় বাঁচবে প্রায় ৬২ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং যানবাহনের গতি বাড়বে প্রায় ৫ গুণ।

Share This Article


সারা দেশে ১৫৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

সেন্টমার্টিনে জাহাজ চলাচল বন্ধ, শতাধিক পর্যটক আটকা

গাজা ‘ছাড়ো নয় মরো’

বাংলাদেশ নিয়ে যে প্রশ্ন করায় বিরক্তি প্রকাশ করলেন মিলার

সরকার গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্তিশালী করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

ভাড়া করা লোক দিয়ে গাড়িতে আগুন কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি হতে পারে না: হারুন

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রথম পরাজয় প্রধানমন্ত্রী সুনাকের

সারা দেশে আরও ৫ ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু

কমবে ঢাকার তাপমাত্রা, হতে পারে বৃষ্টি

যেসব এলাকার জমি-ফ্ল্যাট নিবন্ধন কর কমলো

ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ১৪ দল ঐক্যবদ্ধ: ওবায়দুল কাদের

তীব্র গতিতে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় ‌‘মিগজাউম’